হাতে ব্যানার, সড়কে গুঁড়ি: উত্তপ্ত ফটিকছড়িতে ৪৮ ঘণ্টার ব্লকেড!

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৫৪

নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর সর্বসাধারণের সুবিধাজনক ও যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

বাগান বাজার, দাঁতমারা এবং নারায়ণহাট-এই তিন ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে রবিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে টানা ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদ এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভোরে আলো ফোটার সাথে সাথেই রাজপথে নেমে আসেন হাজার হাজার আন্দোলনকারী।

আন্দোলনের তাপে উত্তর ফটিকছড়ির মির্জার হাট থেকে শুরু করে বাগান বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটারজুড়ে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য চোখে পড়ে।

গহিরা-হেঁয়াকো সড়ক এবং বারৈয়ারহাট-রামগড় সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং বিশাল আকারের ট্রাক আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে শক্ত ব্যারিকেড গড়ে তোলে।

মোড়ে মোড়ে পিকেটারদের অবস্থান ও তীব্র স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বাগান বাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের মুখপাত্র একরামুল হক বাবুল আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে সাফ জানিয়ে দেন, ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধাজনক স্থানে স্থাপন করা আমাদের প্রধান দাবি।

এটি কোনো অযৌক্তিক দাবি নয়, বরং এলাকার সাধারণ মানুষের জনভোগান্তি কমানোর লড়াই। আমাদের এই যৌক্তিক দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

তবে আন্দোলনের তীব্রতা থাকলেও মানবিক দিক বিবেচনা করে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনগুলোকে হরতালের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ভূজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, সার্বিক পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তিনি বলেন, এলাকাবাসী বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে ও ব্যারিকেড দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবেই হরতাল পালন করছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানা পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৪০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা সংবেদনশীল বিভিন্ন স্পটে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি