অভিনব কায়দায় সোনা চোরাচালান, কাস্টমসের জালে তামিলনাড়ুর যাত্রী

প্রকাশিত: ০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:২৬

শারজাহ থেকে সোনা চোরাচালানের এক অভিনব কৌশল নস্যাৎ করে দিল শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গোয়েন্দা সংস্থা ও কাস্টমস টিম।

গোপনীয় জায়গায় ‘বিশেষ পেস্ট’ বানিয়ে সোনা লুকিয়ে এনেও শেষ রক্ষা হলো না এক ভারতীয় নাগরিকের।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো যৌথ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৪২৭ গ্রাম ওজনের স্বর্ণ, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৮১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩৭৫ টাকা।

আজ শনিবার (১ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শারজাহ থেকে আসা ‘এয়ার আরাবিয়া’র G9-526 ফ্লাইটে চট্টগ্রামে অবতরণ করেন ভারতীয় নাগরিক তামিম আনসারী (পাসপোর্ট নং: ZA806284)।

প্রথম দর্শনে আর ১০ জন সাধারণ যাত্রীর মতোই মনে হয়েছিল তাকে। কিন্তু বিমানবন্দরের সবুজ সংকেত অর্থাৎ ‘গ্রীন চ্যানেল’ পার হওয়ার সময়ই ঘটে বিপত্তি।

গোয়েন্দা তথ্যে ধরা পড়ল অভিনব রহস্য

আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল বিমানবন্দর কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স, এনএসআই (NSI) এবং ডিজিএফআই (DGFI)-এর যৌথ প্রতিনিধি দল।

নির্দিষ্ট গোপন খবরের ভিত্তিতে তামিম আনসারীকে থামিয়ে নিবিড় তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির এক পর্যায়ে কর্মকর্তা ও গোয়েন্দারা দেখতে পান চোরাচালানের এক অদ্ভুত কায়দা!

আটককৃত যাত্রী তার পরনের আন্ডারওয়্যারের ভেতর বিশেষ কৌশলে পেস্ট বা তরল-ঘন অবস্থায় ৯টি স্বর্ণের টুকরো লুকিয়ে রেখেছিলেন। আটককৃত তামিম আনসারীর বাড়ি ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাই এলাকায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, উদ্ধারকৃত ৪২৭ গ্রাম স্বর্ণের চালানটি তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর কাস্টমসের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোনা চোরাচালানে জড়িত আটককৃত ওই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে তাকে চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা থানায় সোপর্দ করা হবে।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানান, যেকোনো ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা পাচার এবং সোনা চোরাচালান রোধে বিমানবন্দর গোয়েন্দাসংস্থাসমূহ, কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর যৌথ নজরদারি সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোরদার রাখা হয়েছে।

ভবিষ্যতে অপরাধীদের দমনে এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি