ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পিচঢালা পথে চাকা ঘুরছিল, কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না। প্রযুক্তির সূক্ষ্ম জাল ও পুলিশের তীক্ষ্ণ নজরদারিতে ঢাকা মুখী পথেই থমকে গেল চোরাই মোবাইলের বেচাকেনার এক গোপন সফর।
ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ঠিক ১২টা। চারপাশ যখন নিস্তব্ধ, ঠিক তখনই মিরসরাই পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের পশ্চিম পাশের মহাসড়কে বসেছিল পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এই নৈশ অভিযানে ধরা পড়েন মো. ছাদেক (৩৮) নামে এক ব্যক্তি। তিনি সিলেটের শাহপরান (রহ.) থানার হতুরা চুয়াবহর বটেশ্বর এলাকার মো. কুতুব আলীর ছেলে।
তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। সাদেক নামের ওই ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের ১৬টি চোরাই স্মার্টফোন। যা কৌশলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হস্তান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধরা পড়া ছাদেক পুলিশের কাছে অকপটে স্বীকার করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের হয়ে গোপনে হাতবদল হওয়া ও ছিনতাইকৃত এসব মোবাইল কেনাবেচায় সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে আছেন।
সিলেট থেকে চট্টগ্রাম-চোরাই ডিভাইসের এক বিশাল সিন্ডিকেটের সুতা ধরে কাজ করছিলেন তিনি।
এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ছিনতাই ও চোরাই মোবাইল কেনাবেচার মতো অপরাধ রুখতে তাদের অভিযান এখন পূর্ণ শক্তিতে চলমান।
তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আমরা চক্রের বাকি সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করছি। উদ্ধার হওয়া প্রতিটি ফোনের তথ্য যাচাই চলছে। কেবল এই বাহকই নয়, চোরাই চক্রের মূল হোতাসহ নেপথ্যে থাকা সবাইকে খুব শীঘ্রই আইনের আওতায় আনা হবে।
মহাসড়ক কিংবা অলিগলি-পকেটমার ও মোবাইল ছিনতাইকারীদের সিন্ডিকেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে কঠোর চেকপোস্ট, গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখার বার্তা দিয়েছে মিরসরাই থানা পুলিশ।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

