প্রযুক্তি যেন প্রভু না হয়, মনের চোখ খোলাই আসল শিক্ষা: ডিসি জাহিদুল

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:৩৯

শুধুমাত্র পাঠ্যবই মুখস্থ করে বড় কোনো ডিগ্রি কিংবা সনদ অর্জন করলেই একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হওয়া যায় না। শিক্ষার আসল রূপ তখনই প্রকাশিত হয়, যখন তার সঙ্গে যুক্ত হয় মানবিকতা, গভীর দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতা।

চট্টগ্রামে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণী উৎসবে এমনই ঋজু ও জীবনমুখী বক্তব্য তুলে ধরেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য উৎসবে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বড়দের শ্রদ্ধা, ছোটদের স্নেহ এবং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মনমানসিকতা না থাকলে, অর্জিত সেই শিক্ষা সমাজ বা রাষ্ট্রের কোনো কল্যাণেই আসে না।

বর্তমান যুগে সমাজের ক্রমবর্ধমান আত্মকেন্দ্রিকতা ও স্বার্থপরতার প্রতি আঙুল তুলে জেলা প্রশাসক স্মর করিয়ে দেন যে, মানুষ একা ভালো থাকতে পারে না। সমাজকে বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত সাফল্য শেষ পর্যন্ত নিরর্থক।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, শুধু বাইরের দুটি চোখ দিয়ে বিশ্বকে দেখলে চলবে না, শিক্ষার আলো দিয়ে অন্তরের ‘মনের চোখ’ ফুটিয়ে তুলতে হবে। যা মানুষকে কেবল সফল নয়, বরং একজন সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।

প্রযুক্তি হোক সেবক, প্রভু যেন না হয়
ডিজিটাল বিশ্বের তীব্র প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্য করে তোলার পাশাপাশি প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক বার্তা দেন জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

তাঁর ভাষায়, প্রযুক্তি একটি চমৎকার সেবক, কিন্তু এটি যদি অভিভাবক বা প্রভু হয়ে বসে, তবে তা মারাত্মক বিপজ্জনক।” বই পড়ার ঐতিহ্য বজায় রাখার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তির নিরাপদ ও ইতিবাচক ব্যবহারে দক্ষ হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

মুক্তিসংগ্রামের চেতনা ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন
একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের পেছনের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব আজকের নতুন প্রজন্মের। দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে মেধা, আধুনিক জ্ঞান ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলেই বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

উৎসবমুখর জিইসি কনভেনশন সেন্টার
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বিগত ৪৮ বছর ধরে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার এই মহান ব্রত পালন করে আসছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ১ হাজার ৪০০টি স্কুলের দেড় লাখ শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত।

২০২৫ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম নগরের ১০১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থী এই বইপড়া কর্মসূচিতে অংশ নেয়। কঠোর মূল্যায়নে উত্তীর্ণ ৫ হাজার ৮৯৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শুক্রবার দুটি পর্বে পুরস্কৃত করা হয়।

পুরস্কার বিজয়ী ক্ষুদে পড়ুয়াদের উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো জিইসি কনভেনশন সেন্টার।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. বিল্লাল হোসেন খান, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক ও নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি