ফেনী থেকে ছেড়ে আসা একটি দ্রুতগতির প্রাইভেটকার। গন্তব্য চট্টগ্রাম নগরীর পাইকারি মাদকের বাজার। তবে সেই গোপন চালানের ছক অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিল এলিট ফোর্স র্যাব-৭।
নগরীর ব্যস্ততম মমিন রোড এলাকায় চেকপোস্ট ভেঙে পালানোর চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি চালকের। তল্লাশিতে তেলের কার্টন থেকে বেরিয়ে এসেছে ১১৮ বোতল নামি-দামি ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন মমিন রোডের কদম মোবারক এতিমখানা মার্কেটের সামনে ঘটে এই নাটকীয় ঘটনা।
গোপন সূত্রে খবর আসে, ফেনী জেলা শহর থেকে একটি প্রাইভেটকারে বিদেশি মদের বিশাল চালান নিয়ে একটি চক্র চট্টগ্রামের দিকে আসছে।
তথ্যের সত্যতা যাচাই ও চালানটি জব্দ করতে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মমিন রোডে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসায় র্যাব-৭।
চেকপোস্ট স্থাপনের মাত্র ৫ মিনিটের মাথায়, অর্থাৎ সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত প্রাইভেটকারটি চেকপোস্টের দিকে এগিয়ে আসে।
র্যাব সদস্যরা গাড়িটিকে থামার সংকেত দিলে চালক গতি বাড়িয়ে দিয়ে সোজা চেকপোস্ট অতিক্রম করে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা চালান।
কিন্তু র্যাবের চৌকস দলের তৎপরতায় বেশি দূর এগোতে পারেনি গাড়িটি। হাতেনাতে আটক করা হয় প্রাইভেটকারের চালক মো. আরিফুল ইসলাম ভূঞাকে (২১)। তবে এই ফাঁকে কৌশলে গাড়ি থেকে নেমে চম্পট দেয় তার এক সহযোগী।
পরবর্তীতে প্রাইভেটকারটির ভেতর ও পেছনের ট্রাংকে তল্লাশি চালায় র্যাব। সেখানে সুকৌশলে সাজিয়ে রাখা আটটি বাদামি রঙের তেলের কার্টন দেখে সন্দেহ হয় আভিযানিক দলের।
কার্টনগুলো খুলতেই বেরিয়ে আসে বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের স্টিকারযুক্ত অক্ষত ১১৮ বোতল বিদেশি মদ। তাৎক্ষণিকভাবে মদসহ মাদক বহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে আটক আরিফুল ও তার পলাতক সহযোগী দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় বিদেশি মদ সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন পাইকারি মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহ করে আসছিল।
আটক আরিফুল ইসলাম ভূঞা, তার পলাতক সহযোগী এবং উদ্ধারকৃত মাদকের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

