দীর্ঘদিনের শ্রম আর স্বপ্ন দিয়ে গড়ে তোলা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের সৃষ্টিশীলতার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু-তার ব্যক্তিগত স্টুডিওটিতে এখন শুধু ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা কাচ আর তাণ্ডবের ক্ষতচিহ্ন।
চাঁদা দাবির জেরে এই নির্মম হামলার অভিযোগ উঠলেও, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন এক রাজনৈতিক ও ভূমিসংক্রান্ত চক্রান্তের চিত্র।
ঘটনাটি শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার। রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে অবস্থিত সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে দৈনন্দিন কাজ করছিলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হুট করেই প্রায় এক থেকে দেড়শো জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে সেখানে হানা দেয়। আকস্মিক এই হামলায় দিগ্বিদিক হারিয়ে আতঙ্কিত কর্মীরা প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত টয়লেটে গিয়ে আত্মগোপন করেন।
ভিতরে ঢুকে হামলাকারীরা শুরু করে তাণ্ডবলীলা। ক্যামেরার লেন্স থেকে শুরু করে দামি এডিটিং সেটআপ, সিসিটিভি ক্যামেরা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন এমনকি মানিব্যাগ পর্যন্ত লুটে নেওয়া হয়।
স্টুডিওর এক কর্মকর্তা জানান, হামলাকারীরা টয়লেটের দরজা ভেঙে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের সাথে থাকা নগদ টাকা ও ফোন ছিনিয়ে নেয়। তবে স্বস্তির বিষয়, ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত হননি।
সালমান মুক্তাদিরের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
ঘটনার সময় ঢাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন সালমান মুক্তাদির। মর্মান্তিক এই খবরের পর তিনি জরুরি ভিত্তিতে বিমানে ঢাকায় ফিরে সরাসরি চলে যান তার চূর্ণবিচূর্ণ স্টুডিওতে। সেখান থেকে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি তার ক্ষতিগ্রস্ত স্বপ্নের আঙিনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন।
সালমানের সরাসরি অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের (বিএনপির লোকজন) কিছু ব্যক্তি তার কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা দিতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে এই হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সৃষ্টির জায়গাটি মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দেওয়া হলো। তবে আবেগাপ্লুত হলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই কাপুরুষোচিত হামলায় তার পথচলা থমকে যাবে না।
এদিকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকেই রামদা ও ছোরাসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তবে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের তোলা চাঁদা দাবির অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ না করলেও, ঘটনাটির মূল কারণ হিসেবে জমি দখলকে চিহ্নিত করছে পুলিশ।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে এটি জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে ঘটানো হয়েছে। ইসিবি চত্বরের ওই ভবনের মালিকানা বা দখল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই এই সহিংসতা।
একদিকে জনপ্রিয় এক তারকা ক্রিয়েটরের চাঁদা দাবির সরাসরি অভিযোগ, অন্যদিকে পুলিশের জমি দখলের প্রাথমিক তদন্তের দাবি-সব মিলিয়ে ঘটনাটি ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা।
স্বপ্নের স্টুডিও হারিয়ে সালমান মুক্তাদির যখন সুবিচারের প্রতীক্ষায়, তখন পুরো রহস্যের আসল জট ছাড়াতে জোর তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


