সকালের স্নিগ্ধ আলোয় বাড়ির আঙিনায় বন্ধুদের সঙ্গে মেতে ছিল দুই বছরের এক ফুটফুটে শিশু। তার কচি পায়ের চঞ্চলতায় মুখরিত ছিল চারপাশ।
কিন্তু কে জানত, এই চঞ্চলতাই রূপ নেবে নিথর নিস্তব্ধতায়! মুহূর্তের অসাবধানতায় বাড়ির পাশের জলাশয় কেড়ে নিল ছোট্ট শিশুটির প্রাণ, রেখে গেল স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ।
মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম গন্ডামারা ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাতব্বর পাড়ায়।
রোববার সকাল ৮টার দিকে পুকুরে ডুবে মারা যায় স্থানীয় মাওলানা আব্দুল মান্নানের দুই বছরের শিশু মুহাম্মদ মায়াজ।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের বরাতে জানা যায়, সকালের দিকে প্রতিদিনের মতোই বাড়ির পাশে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল মায়াজ। খেলার একপর্যায়ে সবার অলক্ষে সে বাড়ির ঠিক পাশেই থাকা অরক্ষিত পুকুরে পড়ে তলিয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে আর না দেখতে পেয়ে চারদিকে খোজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে পুকুরের জলে শিশুটিকে ভাসতে দেখে আঁতকে ওঠেন তারা। দ্রুত উদ্ধার করে ডাঙ্গায় তোলা হলেও ততক্ষণে সব শেষ-চিরতরে চোখ বুজেছে মায়াজ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল কাদের আক্ষেপের কণ্ঠে বলেন, সকালেও শিশুটি অন্য বাচ্চাদের সাথে খেলছিল। চোখের পলকে যে এই কাল হয়ে আসবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি। সবার অগোচরেই দুর্ঘটনাটি ঘটে গেল।
মায়াজের এমন করুণ পরিণতিতে পুরো মাতব্বর পাড়াজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অকালে সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মা ও স্বজনেরা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাঁশখালী এলাকায় পুকুরে ডুবে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
সচেতন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, বাড়ির কাছাকাছি জলাশয় বা পুকুরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাবেষ্টনী (বেড়া) না থাকা এবং শিশুদের চলাফেরায় সাময়িক নজরদারির অভাবই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
একটি অসাবধানতা যেভাবে নিমিষেই একটি পরিবারকে সারাজীবনের কান্নায় ভাসিয়ে দিতে পারে, তা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি।
প্রতিটি বাড়ির আশেপাশে খোলা জলাশয়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা এবং অবুঝ শিশুদের ওপর সর্বক্ষণ নজর রাখা নিশ্চিত করাই হতে পারে এ ধরনের হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি এড়ানোর একমাত্র উপায়।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


