মাঝদরিয়ায় যখন শুধুই অথৈ জল আর মৃত্যুর হাতছানি, ঠিক তখনই একটি জরুরি কল বদলে দিল ১৩ জন জেলের ভাগ্য।
সেন্ট মার্টিনের দক্ষিণে গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা ‘এফভি রিফাত’ নামের একটি ফিশিং বোটসহ ১৩ জন জেলেকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
ঘটনার সূচনা ঘটেছিল গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর)। টেকনাফ থেকে ১৩ জন জেলেকে নিয়ে রুপালি মাছের সন্ধানে বঙ্গোপসাগরের গভীরে পাড়ি জমায় ‘এফভি রিফাত’।
টানা কয়েকদিন মাছ শিকার শেষে গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে তাদের ফিরতি যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু পোতাশ্রয়ের দিকে রওনা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে বিপত্তি-হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে বোটটির ইঞ্জিন।
মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বোটটি সেন্ট মার্টিন থেকে প্রায় ১২ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে উত্তাল সমুদ্রে ভাসতে থাকে। কূল-কিনারাহীন সাগরে প্রতি মুহূর্তে বাড়তে থাকে ভয় আর অনিশ্চয়তা।
খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকট, তার ওপর সাগরের হিংস্র ঢেউ-সব মিলিয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এক দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নেন বোটে থাকা এক জেলে। তিনি জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ ফোন করে কোস্ট গার্ডের কাছে সাহায্যের আকুতি জানান।
খবর পাওয়া মাত্রই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে অভিযানে নামে কোস্ট গার্ড। বঙ্গোপসাগরে টহলরত কোস্ট গার্ডের শক্তিশালী জাহাজ বিসিজিএস ‘সৈয়দ নজরুল’ দ্রুততম সময়ে জিপিএস ট্র্যাকিং ও কৌশলগত নজরদারির মাধ্যমে উত্তাল সাগরে বিকল বোটটির অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর চালানো হয় এক নিখুঁত ও দ্রুত উদ্ধার অভিযান।
কোস্ট গার্ড সদস্যরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিকল বোটসহ ১৩ জন জেলেকেই জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
সমুদ্রের বুকে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকা ক্লান্ত-শ্রান্ত জেলেদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয় এবং তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়।
মঙ্গলবার কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত জেলেদের তাদের ফিশিং বোটসহ নিরাপদে মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সমুদ্রসীমায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এ ধরনের উদ্ধার অভিযান ভবিষ্যতেও নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।
সঠিক সময়ে একটি কল আর কোস্ট গার্ডের তৎপরতায় আজ ১৩টি পরিবার ফিরে পেল তাদের স্বজনকে-সাগরের বুক থেকে ফেরা এই ঘটনা যেন মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


