সৈয়দ শাহ রোডের তাণ্ডব: মূল হোতা মুরাদসহ ৩ জন পটিয়ায় গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৫৮

চট্টগ্রাম নগরের অন্যতম জনবহুল এলাকা বাকলিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও তাণ্ডবের রেশ কাটতে না কাটতেই মূল হোতাদের জালে তুলল পুলিশ।

মধ্যরাতের দুঃসাহসিক ও সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক অভিযানে বাকলিয়ার ত্রাস হিসেবে পরিচিত ১৬টি মামলার আসামি মো. মুরাদকে (৪৩) তার দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত অপর দুজন হলেন-সুমন (৩৫) ও রুহুল আমিন। বুধবার রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রামের পটিয়া থানাধীন কালারপুল এলাকায় গভীর রাতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে বাকলিয়া থানা-পুলিশের একটি চৌকশ দল।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাকলিয়া থানাধীন সৈয়দ শাহ রোডের মোরশেদ টাওয়ারের সামনের পাকা সড়কে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় দুটি পক্ষ।

মুহূর্তের মধ্যে থমথমে হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। সংঘাত চলাকালে যত্রতত্র ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং সড়কে চলাচলরত একাধিক সিএনজি অটোরিকশার গ্লাস ভাঙচুর করে জনমনে তীব্র ভীতির সৃষ্টি করা হয়।

এই নাশকতামূলক ঘটনার পরদিন, ২৮ সেপ্টেম্বর বাকলিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

উক্ত মামলায় মো. মুরাদকে করা হয় প্রধান (১ নম্বর) এজাহারনামীয় আসামি। পরবর্তীতে গভীর তদন্ত ও অনুসন্ধানে এই সহিংস ঘটনার সাথে সুমন এবং রুহুল আমিনের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য প্রমাণ পায় পুলিশ।

কে এই মুরাদ?
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মো. মুরাদ কোনো সাধারণ অপরাধী নন। চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে নানা অপরাধের এক বিশাল খতিয়ান গড়ে উঠেছে।

২০১৩ সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অন্তত ১৫টি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বরের নতুন মামলার মধ্য দিয়ে তার অপরাধের খাতায় যোগ হলো ১৬ নম্বর মামলাটি।

গ্রেপ্তার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীনূর আলম জানান, জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সুযোগ কাউকেই দেওয়া হবে না। অপরাধীদের কোনো ছাড় নেই।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাতভর অভিযান চালিয়ে পটিয়া এলাকা থেকে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, এই প্রধান অপরাধীরা ধরা পড়ায় বাকলিয়া সৈয়দ শাহ রোড ও আশেপাশের এলাকায় দীর্ঘদিনের যে রাজনৈতিক ও স্থানীয় আধিপত্যের তাণ্ডব চলছিল, তাতে স্বস্তির নিশ্বাস ফিরে আসবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি