পটিয়ায় কৃষ্ণ মন্দিরের মেঝে সাজাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৩৯

পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দত্ত পাড়া এলাকা থেকে আসা একটি খবরে থমকে যায় চারপাশ। কাজের জায়গায় জমে থাকা ঘাম আর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নের সব হিসাব-নিকাশ এক নিমেষেই মুছে গেছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।

মন্দির সুন্দর করার কাজে হাত লাগিয়েছিলেন যিনি, সেই ১৬ বছর বয়সী কিশোর মিজানুর রহমানকেই অবশেষে বিদায় নিতে হলো চিরতরে।

নিহত মিজানুর পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের লালারখীল গ্রামের মোহাম্মদ হারুনের ছেলে। বয়সে কাঁচা হলেও পরিবারকে সহযোগিতা করতে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন টাইলস বসানোর কাজ।

অল্প বয়সেই দক্ষ হাত আর কাজের প্রতি নিষ্ঠায় নিজের একটি পরিচিতি গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে দত্ত পাড়া এলাকার কৃষ্ণ মন্দিরে প্রতিদিনের মতোই টাইলস বসানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন মিজানুর।

চারপাশের সিমেন্ট, টাইলস আর যন্ত্রপাতির মাঝে নিজের সেরা কাজটি ফুটো তোলার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ ঘটে যায় মর্মান্তিক অঘটন- অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়েন তিনি।

মুহূর্তে সংজ্ঞাহীন হয়ে মন্দিরের মেঝেতেই ঢলে পড়েন এই তরুণ।

ঘটনার আকস্মিকতায় আশপাশের মানুষজন ও স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে আসেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পাড়ি জমান না-ফেরার দেশে। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় আবদুল করিম গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, সকালে খুব স্বাভাবিকভাবেই মন্দিরের কাজ শুরু করেছিল ছেলেটি। কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। আমরা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হলো না।

এক লহমায় পরিবারের আশা-ভরসার আলোটি নিভে যাওয়ায় লালারখীল গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

একজন কিশোরের জীবিকার সংগ্রাম যে এভাবে হঠাৎ থেমে যাবে, তা মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা।

মন্দিরে সুন্দর ছোঁয়া দেওয়ার সেই কাজ শেষ হলেও, আড়ালেই থেকে গেল এক অকাল ঝরে যাওয়া তরুণের অসমাপ্ত গল্প।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি