কক্সবাজার থেকে আসা একটি মিনিট্রাক থামিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা লুটের অভিযোগে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের তিন সদস্যকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে।
লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া এলাকা ঘিরে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা মেলায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাঁদের বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বুধবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে লোহাগাড়া-সাতকানিয়া সীমান্তে সংঘটিত এই অনিয়মের অভিযোগে তাঁদের সাতকানিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, প্রশাসনিক কারণে ওই তিন পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্য হলেন-সাতকানিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এস এম মাহবুবুল ইসলাম, কনস্টেবল ফয়েজ আহমেদ ও কনস্টেবল গাজী মো. মহসিন।
জানা যায়, গত শনিবার রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে ৩০ হাজার ইয়াবার একটি চালান নিয়ে একটি মিনিট্রাক চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটি লোহাগাড়ার পুটিবিলা ইউনিয়নের একটি নির্জন সড়কে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা সেটির গতি রোধ করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাকচালক নাছিরের অভিযোগ, পুটিবিলা এলাকাতেই তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে জিম্মি করা হয়। পরে ট্রাকটি চালিয়ে সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে রবিন ও মোমিন নামের দুই কথিত পুলিশ সোর্সের সহযোগিতায় চালকের আসনের নিচে লুকিয়ে রাখা ৩০ হাজার ইয়াবা লুট করে নেন তাঁরা।
শুধু তা-ই নয়, ঘটনার সব প্রমাণ মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে মিনিট্রাকে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় এবং এর মেমোরি কার্ড সম্পূর্ণ ফরম্যাট করে দেন অভিযুক্তরা।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে দ্রুত অনুসন্ধানে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা মেলে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবা লুটের এই স্পর্শকাতর ঘটনায় অভিযুক্তদের তাৎক্ষণিকভাবে থানা থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


