চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ও জনপ্রিয় পর্যটন স্পট ‘ফয়েসলেক’ এলাকায় পথচারীদের স্বস্তি ফেরাতে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।
ফুটপাত দখলমুক্ত করা, সৌন্দর্য সংরক্ষণ এবং বিনোদনপ্রেমী মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিতের লক্ষ্যে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে চিড়িয়াখানা সংলগ্ন এলাকায় এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বিপুলসংখ্যক দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করে চসিকের ভ্রাম্যমাণ দল।
এতে এক নিমেষেই দীর্ঘদিনের ফুটপাত দখলের চিত্র বদলে গিয়ে ফিরে আসে প্রশস্ত ও স্বস্তিদায়ক চলাচলের পরিবেশ।
সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় ছিল-কোনো ধরনের তোয়াক্কা না করে অভিযানের নেতৃত্ব দিতে সকালে নিজেই সশরীরে উপস্থিত হন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।
তাঁর প্রত্যক্ষ তদারকিতে পুরো চত্বরজুড়ে চসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা টানা অভিযান ও ঝাড়ু কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
অভিযানকালে চরম হুঁশিয়ারি ও স্পষ্ট বার্তা দিয়ে প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ফুটপাত হচ্ছে সাধারণ পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের স্থান, অবৈধ দখলদারদের পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করার কোনো জায়গা এটি নয়।
নগরীর রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে জনভোগান্তি সৃষ্টি করলে চসিক তা বিন্দুমাত্র বরদাশত করবে না। নগরবাসীর অধিকার সুনিশ্চিত করতে এই ধরনের কঠোর আইনি অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
ফয়েসলেকের পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শাহাদাত আরও যোগ করেন, ফয়েসলেক চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের অংশ এবং অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। এখানকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য, সবুজ পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব।
একটি পরিচ্ছন্ন, দৃষ্টিনন্দন ও সুস্থ-বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে চসিকের উচ্ছেদ প্রচেষ্টার পাশাপাশি সাধারণ নগরবাসীকেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সচেতন হতে হবে।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সৌন্দর্য রক্ষা ও জনস্বার্থে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার এই ধারাবাহিক লড়াই থামবে না।
চসিকের এই সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাঁদের মতে, এ ধরনের নিয়মিত তদারকি বহাল থাকলে ফয়েসলেক তার পূর্ণ রূপ ও সৌন্দর্য ফিরে পাবে এবং চট্টগ্রাম সত্যিই পরিণত হবে একটি পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বমানের পর্যটন নগরীতে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


