কূটনীতি ও নিরাপত্তার নতুন বার্তা নিয়ে চট্টগ্রামে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ওয়ারিয়র’

লক্ষ্য সমুদ্র নিরাপত্তা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭:০১

বঙ্গোপসাগরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার ও যৌথ অভিযানের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ওয়ারিয়র’।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যৌথ প্রশিক্ষণ মহড়া ‘কারাত-২০২৬’-এ অংশ নিতে রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) জেটিতে এসে পৌঁছায়।

৬৮ মিটার দীর্ঘ এই যুদ্ধজাহাজটির নেতৃত্বে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মেরি সেনোনাইটেড। তাঁর নেতৃত্বেই মার্কিন নৌবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল এই যৌথ মহড়ায় অংশ নিতে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে।

রবিবার দুপুরে জাহাজটি বন্দরের প্রবেশমুখে পৌঁছালে সামরিক রীতি ও ঐতিহ্য অনুযায়ী বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনের মাধ্যমে জাহাজটিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

পরবর্তীতে জেটিতে ভেড়ার পর প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২ নভেম্বর) চট্টগ্রামের স্কুল অব মেরিটাইমে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচ দিনব্যাপী এই ‘কারাত-২০২৬’ মহড়া শুরু হবে।

মহড়ার মূল বিষয়বস্তু হলো সমুদ্রপথের নিরাপত্তা সুসংহত করা এবং যৌথ অভিযান পরিচালনায় দুই দেশের নৌসদস্যদের পারস্পরিক কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে পেশাগত জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি আধুনিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হবে।

কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, নিয়মিত এই ধরনের যৌথ প্রশিক্ষণ মহড়া বাংলাদেশ ও মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থাশীল সম্পর্ক, পেশাগত সমন্বয় এবং সামরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করবে।

একই সাথে এটি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৫ নভেম্বর যৌথ মহড়াটি শেষ হবে। মহড়া সমাপ্তির পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর এই যুদ্ধজাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি