সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী পেলেই গ্রেপ্তার: কঠিন হুঁশিয়ারি ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর

মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার ডাক: চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৩ মাসে ৬০ হাজার আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৩

সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজপড়ুয়া কোনো শিক্ষার্থীকে রাস্তায় অনর্থক ঘোরাফেরা বা আড্ডা দিতে দেখলে তাদের আটক ও গ্রেপ্তার করা হবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।

উপযুক্ত কারণ দর্শাতে না পারলে এবং অতীতে অপরাধের রেকর্ড থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

গতকাল শনিবার কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে আয়োজিত ‘নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক অপরাধ দমন’ শীর্ষক এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, ছিনতাই ও মাদকের মতো মারাত্মক অপরাধে যারা জড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কিশোর বয়সটা বিভ্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সময়।

তারা যেন মাদকের অন্ধকার চোরাবালিতে হারিয়ে না যায় এবং ইভটিজার হিসেবে গড়ে না ওঠে, সে লক্ষ্যেই পুলিশ আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

অভিভাবকদের প্রতি প্রশ্ন রেখে এই উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সন্ধ্যার পরে কোনো শিক্ষার্থী বাইরে থাকলে তাকে ধরা হবে। উপযুক্ত প্রমাণ না থাকলে এবং পূর্ব অপরাধের ইতিহাস থাকলে তাকে সোপর্দ করা হবে।

একই সাথে অভিভাবকদের কাছে জবাব চাওয়া হবে-কেন আপনার সন্তান সন্ধ্যার পর রাস্তায় আড্ডা দিচ্ছে?

পরিবার ও সমাজ যদি এ বিষয়ে সচেতন না হয়, তবে জাতি হিসেবে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে হারিয়ে যাবে।

অপরাধ ও মাদক দমনে পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, চট্টগ্রাম রেঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে।

গত তিন মাসে রেঞ্জের ১১টি জেলায় মাদক উদ্ধার এবং আসামি গ্রেপ্তারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ সময়ে অন্তত ৬০ হাজার আসামিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কেবল পুলিশের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।

তিনি বলেন, নারী নির্যাতন, কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার কিংবা ইয়াবার ছোবল-এগুলো আর নির্দিষ্ট কোনো একক পরিবারের সমস্যা নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য বড় উদ্বেগ।

ইয়াবার মারাত্মক প্রভাবে তরুণেরা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং নেশার টাকা জোগাতে বাবা-মায়ের গয়না চুরি থেকে শুরু করে ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস অপরাধ ঘটাচ্ছে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি উপস্থিত সুধীজনকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সব দায় কি পুলিশের ওপর ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে বসে থাকা যায়?

একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে এই সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আন্দোলনে অংশ নেওয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি