নতুন দায়িত্ব পেলেন অর্থ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর, ২০২৬ ১৩:০৫

রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক ও প্রশাসনিক দাবিগুলো সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

বেতন গ্রেডের জটিলতা নিরসন এবং ঝুঁকি ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিবেচনার জন্য অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ উচ্চপর্যায় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি ও সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়।

এই কমিটির সুনির্দিষ্ট সুপারিশগুলো দেশের লাখ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর পেশাগত জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকারের শীর্ষ নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের মন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত এই কমিটিতে আহ্বায়ক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন আরও পাঁচজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।

তারা হলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল) ও জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই কমিটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে কাজ করবে।

বেতন স্কেলের অসংগতি দূরীকরণ: সরকারি কর্মচারীদের বর্তমান বেতনস্কেলের বিভিন্ন স্তরে যে অসংগতি বা বৈষম্য রয়েছে, সেগুলোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পর্যালোচনা করে দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ করবে।

গ্রেড বিন্যাস ও সামঞ্জস্য বিধান: ভবিষ্যতে সরকারি চাকুরির বিভিন্ন পদের বেতন গ্রেড উন্নীতকরণ, অবনমন এবং সার্বিক সামঞ্জস্য বিধানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করবে।

ভাতা পুনর্বিন্যাস: সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন করে ‘ঝুঁকিভাতা’ চালু করা, বিদ্যমান ভাতার হার যৌক্তিক পর্যায়ে কমানো বা বাড়ানো এবং এসংক্রান্ত অন্যান্য আর্থিক বিষয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করবে।

কমিটির কার্যক্রমকে গতিশীল করতে দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা সার্বিক সহায়তা প্রদান করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বা সংশ্লিষ্ট সচিবগণ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অর্থ বিভাগের সচিবরা এই কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক ও তাত্ত্বিক সহায়তা দেবেন।

এছাড়া, কাজের প্রয়োজনে কমিটি যেকোনো নতুন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করার এখতিয়ারও রাখে।

প্রয়োজন সাপেক্ষে নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে এই কমিটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং এর সম্পূর্ণ সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে অর্থ বিভাগ।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি