জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদ্‌যাপন

দেশটির আইন-কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কাজ করার আহ্বান ধর্মমন্ত্রীর

সৌদি আরব প্রতিনিধি: প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৯

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের উদ্যোগে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬’ উদ্‌যাপন করা হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ধর্মমন্ত্রী ও জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও বাংলা অনুবাদ পাঠ করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। এ ছাড়া ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লবের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন।

তিনি গণতন্ত্র রক্ষা ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এ দিবসের গুরুত্ব উল্লেখ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

এ সময় সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের প্রতি যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধা বজায় রেখে সবাইকে এ দেশের প্রচলিত আইন-কানুন মেনে চলতে হবে।

কর্মক্ষেত্র ও ব্যক্তিগত জীবনে দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সৌদি সরকারের আইন ও বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে প্রবাসীদের এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার পরামর্শ দেন, যাতে সৌদি আরবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল তাঁর বক্তব্যে ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন স্বাধিকার আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

তিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন।

তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সুনাম ও মর্যাদা রক্ষায় প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়-এমন কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জেদ্দা বিএনপির নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন। তাঁদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ আব্দুর রহমান, সৌদি আরব বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মান্নান, সদস্য সচিব মীর মনিরুজ্জামান তপন এবং জেদ্দা মহানগর বিএনপির সভাপতি সিআইপি খেফায়েত উল্লাহ।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন।

তাঁরা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে প্রবাসে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পাশাপাশি দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ হজ অফিস জেদ্দার কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ বিমানের জেদ্দা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের (বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম) শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, উন্নয়ন ও সার্বিক কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি/ফিরোজ