back to top

তুরস্কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মকর্তার স্ত্রী নিহত

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৮:২৮

তুরস্কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আঙ্কারাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ওই কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন এবং তাঁর দুই সন্তান। দুর্ঘটনাটি প্রবাসী বাংলাদেশি মহলে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, শনিবার (স্থানীয় সময়) দুপুরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তুরস্কের জনপ্রিয় পর্যটন নগরী আনতালিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন শাহাদাত হোসেন।

পথে দেশটির ইস্পারাতা প্রদেশের একটি মহাসড়কে তাঁদের বহনকারী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি শাহাদাত হোসেন নিজেই চালাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় ঘটনাস্থলেই তাঁর সহধর্মিণীর মৃত্যু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় শাহাদাত হোসেন ও তাঁর দুই সন্তানকে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে পাঠান।

বর্তমানে তাঁরা সবাই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসকরা তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আঙ্কারাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস তৎপর হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রদূত আমানুল হক নিজে একটি দূতাবাস প্রতিনিধি দল নিয়ে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরে তিনি হাসপাতালে গিয়ে আহত শাহাদাত হোসেন ও তাঁর সন্তানদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

দূতাবাস সূত্র জানায়, নিহতের মরদেহ স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে পরিবারটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

প্রয়োজনে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।

শাহাদাত হোসেন আঙ্কারাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তুরস্কে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা তুরস্কেই অবস্থান করছিলেন।

আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় তাঁদের পরিবার, সহকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা শোকাহত।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তুরস্কের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি বা সড়কের কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানান, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা নিহতের পরিবারের পাশে আছি। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দূতাবাস সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শাহাদাত হোসেনের স্ত্রীর মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনার বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।

অনেকেই দ্রুত তাঁর সুস্থতা কামনা করে দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন।

এই দুর্ঘটনা আবারও বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দীর্ঘ সড়কভ্রমণের সময় নিরাপত্তা বিষয়ে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিচিত সড়কে ভ্রমণের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।

নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল আহত শাহাদাত হোসেন ও তাঁর দুই সন্তানের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।