চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলে সামির কাদের চৌধুরী, শাকির কাদের চৌধুরী এবং মেরিনা ইরশাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তারা।
রাজধানীর গুলশানে এক শিল্পপতির ফ্ল্যাট দখলের সময় তার স্ত্রী-সন্তানদের মারধর, ভাঙচুর, লুটপাট ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলার শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
আরও পড়ুন
ঢাকার মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গত ১ এপ্রিল এ মামলায় চারজনের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এই তিন আসামি ছাড়াও আরেক আসামি আশিকুর রহমানের জামিন বাতিল করা হয়।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এ মামলার আসামি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা দীর্ঘ দিন যাবৎ বাদীর আবাসিক বাড়ীর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট জোর করে দখলের চেষ্টা করে আসছে।
গত বছরের ৩ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে আসামিরা বাদীর ছয়তলা বিল্ডিংয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে বে-আইনীভাবে অনধিকার প্রবেশ করেন।
এ সময় তারা বাদীর অফিস রুমের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মিনি পিক-আপে উঠিয়ে চুরি করে নিয়ে যায় এবং আরও দুই লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।
পরদিন বিল্ডিংয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোর ঠিক করতে গেলে আসামিরা লোহার রড, লোহার পাইপ, কাঠের লাঠি, লোহার হাতুড়ী ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে অনধিকার প্রবেশ করে বাদীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বাড়ী থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এতে আরও বলা হয়, আসামিদের এরকম আচরণ করতে নিষেধ করলে বাদীকে তারা এলোপাথারী ভাবে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে।
আসামিরা বাদীর ছেলেকেও কাঠের লাঠি, লোহার রড, লোহার পাইপ ও হাতুড়ী দিয়ে এলোপাথারী ভাবে পিটিয়ে জখম করে।
পরবর্তীতে বাদীর ছেলে সরকারী জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল করে গুলশান থানা পুলিশের কাছে সহযোগীতা চাইলে তারা এগিয়ে আসে।
ওই ঘটনায় গত বছরের ১০ ডিসেম্বর গুলশান থানায় ফারজানা আন্না ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



