back to top

ঘাটে ঘাটে চাঁদা, আড়ালে অপরাধের ছাতা-কে এই মানিক?

চন্দনাইশে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে বেপরোয়া মানিক

প্রকাশিত: ০৬ মে, ২০২৬ ১৫:৩৮

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় ‘থানার ক্যাশিয়ার’ পরিচয়ে ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে মানিক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁর কাছে টাকা দিলেই মাদক কারবার থেকে শুরু করে পাহাড় কাটা, বালু উত্তোলন, ভূমির টপ সয়েল কাটা—সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালানো যায়।

এতে এলাকায় অপরাধ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করা মানিক চলতি বছরের শুরু থেকে নিজেকে থানার ‘ক্যাশিয়ার’ পরিচয় দিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নিয়োগ করা লোকজন নিয়মিত চাঁদা সংগ্রহ করে। অভিযোগ রয়েছে, টাকা দিলেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পাহাড় কাটা ও টপ সয়েল উত্তোলনের মতো অবৈধ কাজ করতে হলে মানিককে নিয়মিত টাকা দিতে হয়। “ওকে টাকা দিলে পুলিশ ঝামেলা করে না”—এমন ধারণা এখন এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

উপজেলার কাঞ্চনাবাদ ও হাশিমপুর ইউনিয়নে ইতিমধ্যে কয়েকটি পাহাড় কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ভূমির উর্বর টপ সয়েল সরিয়ে ফেলায় জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে মানিকের ‘অভয়’ বড় ভূমিকা রাখছে।

মানিক দোহাজারী পৌরসভার সরকার পাড়া এলাকার খায়ের আহমদের ছেলে।

তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অনেক আগে থেকেই টাকা উত্তোলন করি, সবাই জানে, নতুন করে প্রশ্ন করার কী আছে।”

এ বিষয়ে চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াছ খান বলেন, “আমি ডিসেম্বর মাসে যোগদান করার পর সে থানায় এসে পরিচিত হয়েছিল।

তাকে বলে দিয়েছি, আমার এলাকায় এসব করলে তাকে আটক করা হবে। থানার নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদা তুললে তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

স্থানীয়দের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ড চললেও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে চন্দনাইশে অপরাধ ও পরিবেশ ধ্বংস—দুটিই আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি