back to top

ঈদযাত্রায় রেলের ভরসা পুরোনো কোচ: পাহাড়তলীর কারখানায় ব্যস্ত শ্রমিকরা

মেরামত শেষে চলবে আরও ১২৪ কোচ

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬ ০৭:২১

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

যাত্রীচাহিদা মোকাবিলায় চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানায় পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত কোচ মেরামতের কাজ চলছে দিনরাত।

এবার ঈদযাত্রার জন্য ১২৪টি কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ৯৯টির কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট কোচগুলোও আগামী সপ্তাহের মধ্যে পরিবহন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত কোচ সংযোজন ও ঈদ স্পেশাল ট্রেন পরিচালনার মাধ্যমে এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক করার চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কারখানার ভেতরে এখন যেন বিরামহীন কর্মযজ্ঞ। কোথাও চলছে বগির চাকা ও ব্রেক মেরামত, কোথাও ওয়েল্ডিং কিংবা রং করার কাজ।

শ্রমিকদের কেউ বৈদ্যুতিক সংযোগ ঠিক করছেন, কেউ আবার দীর্ঘদিন অচল পড়ে থাকা কোচকে নতুন করে চলাচলের উপযোগী করে তুলছেন।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবার পাহাড়তলী কারখানায় অতিরিক্ত ১২৪টি কোচ মেরামতের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯৯টি কোচ ইতিমধ্যে মেরামত শেষে পরিবহন বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অবশিষ্ট কোচগুলোর কাজও শেষ পর্যায়ে। কোরবানির ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগেই সব কোচ চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কোরবানির ঈদে সাধারণত মানুষের বাড়ি ফেরার প্রবণতা রোজার ঈদের তুলনায় বেশি থাকে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও উপকূলীয় জেলাগুলোতে যাত্রীচাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

সেই বাস্তবতায় নিয়মিত আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনের সঙ্গে অতিরিক্ত দুই থেকে পাঁচটি পর্যন্ত বগি সংযোজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুটে চালু করা হবে ‘ঈদ স্পেশাল’ ট্রেন।

কারখানার শ্রমিকদের ভাষ্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোচ প্রস্তুত করতে তাঁদের অনেককে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে। কারণ ঈদের আগে সামান্য বিলম্বও যাত্রীসেবায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

একজন শ্রমিক বলেন, “মানুষ যেন স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারে, সেই চিন্তা থেকেই আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।”

বাংলাদেশ রেলওয়ের দুটি প্রধান কারখানার একটি পাহাড়তলী, অন্যটি সৈয়দপুর। পূর্বাঞ্চলের পুরোনো, মেয়াদোত্তীর্ণ ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কোচ মেরামতের দায়িত্ব মূলত পাহাড়তলী কারখানার ওপরই পড়ে। প্রতিবছর ঈদের আগে এই কারখানায় কাজের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানার তত্ত্বাবধায়ক মোস্তফা জাকির হাসান বলেন, “ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে আমরা প্রায় দেড় মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছি।

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দ্রুত কাজ এগিয়ে চলছে। যাত্রীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

রেলওয়ের পরিবহন বিভাগ সূত্র জানায়, সড়কপথে যানজট ও দীর্ঘ ভোগান্তির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঈদযাত্রায় ট্রেনের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরুর পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই অধিকাংশ টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও এখন নিয়মিত চিত্র। ফলে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন ছাড়া বাড়তি যাত্রীচাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে শুধু অতিরিক্ত কোচ সংযোজনই নয়, নিরাপত্তা ও সেবার মান বজায় রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারণ দীর্ঘদিন ব্যবহৃত পুরোনো কোচগুলোকে পুনরায় সচল করতে প্রয়োজন হয় বাড়তি কারিগরি পরীক্ষা ও সতর্কতা।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি কোচ চলাচলের আগে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে।

ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পাহাড়তলী কারখানার এই ব্যস্ততা তাই কেবল যান্ত্রিক প্রস্তুতি নয়, বরং লাখো মানুষের নিরাপদ ঘরে ফেরার নেপথ্য আয়োজনও বটে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি