back to top

আইনজীবী সমিতির ভোটে উত্তাপ: জামায়াতপন্থিদের বর্জন, সক্রিয় বিএনপিপন্থিরা

ভোটকেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬ ০৮:২১

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চললেও আদালতপাড়ায় তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ ও বিভাজনের চিত্র।

সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে বিএনপিপন্থি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিলেও জামায়াতে ইসলামীপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’ ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে আদালত ভবন এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ করছে।

মনোনয়ন বিতরণ, প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও ৯টি পদে মনোনয়ন বাতিলকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত ভোট বর্জন ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানে গড়িয়েছে, যা পুরো নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি করেছে অনিশ্চয়তা ও বিতর্ক।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের অডিটোরিয়ামে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। প্রায় পাঁচ হাজার ভোটার এ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।

তবে ভোট শুরুর কিছু সময় পরেই আদালত ভবন এলাকার সোনালী ব্যাংক চত্বরে শুরু হয় বিক্ষোভ সমাবেশ।

‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’-এর সমর্থকেরা সেখানে ভোট বর্জনের প্রতিবাদ জানান।

এর আগে সকাল থেকেই ওই এলাকায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়, ফলে পুরো আদালতপাড়া কার্যত বিভিন্ন পক্ষের অবস্থানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট রৌশন আরা বেগম দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, “সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরণের সমস্যা হয়নি।”

অন্যদিকে ভোট বর্জনকারী পক্ষের প্রধান সমন্বয়ক শামসুল আলম বলেছেন, “আমরা ভোট বর্জন করেছি। আমাদের সাধারণ ভোটাররাও ভোট দিচ্ছে না। আমরা এখন এরকমভাবে ভোট গ্রহণের প্রতিবাদে সমাবেশ শুরু করেছি।”

এর আগে নির্বাচন ঘিরে বিরোধের সূত্রপাত হয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও প্রার্থী তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে।

জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের অভিযোগ, মনোনয়ন বিতরণের সময় তাদের বাধা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ৯টি পদে তাদের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

নির্ধারিত সময়ে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না হওয়াকেও তারা অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দেয়।

এবারের নির্বাচনে সমিতির ২১টি পদের মধ্যে ৯টিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নেই। বাকি ১২টি পদে দুজন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই পরিস্থিতিকে ঘিরে নির্বাচনটির প্রতিযোগিতামূলক চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এর আগে গত ৭ মে ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’ আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়।

এর ধারাবাহিকতায় বুধবার চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বিদায়ী কমিটি থেকে জামায়াত সমর্থিত সাতজন আইনজীবী পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়া তাদের ১২ প্রার্থীও ভোট বর্জনের অবস্থান নেন।

বুধবার আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরাও ‘একতরফা নির্বাচন’-এর অভিযোগ তুলে মিছিল করেন।

ফলে নির্বাচন ঘিরে একাধিক পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পুরো আদালতপাড়া কার্যত রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

সব মিলিয়ে ভোটগ্রহণ চললেও চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির এই নির্বাচন ঘিরে বৈধতা, অংশগ্রহণ এবং গ্রহণযোগ্যতা—সব প্রশ্নই এখন আদালতপাড়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি