বহু বছরের অপেক্ষা, অগণিত স্বপ্ন আর বারবার ব্যর্থতার হতাশা—সবকিছুর অবসান হলো এক অবিস্মরণীয় রাতে।
ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে কাতারকে ৬–০ গোলে বিধ্বস্ত করে ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লিখেছে কানাডা।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করল কানাডা। শুধু তাই নয়, এটি দেশটির ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় হিসেবেও রেকর্ড বইয়ে স্থান করে নিয়েছে।
একই সঙ্গে কনকাকাফ অঞ্চলের কোনো দলের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়ের নতুন নজিরও গড়েছে কানাডা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে যায় কাতার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চাপ রূপ নেয় গোলবন্যায়।
শেষ বাঁশি বাজার আগেই স্কোরবোর্ডে ৬–০ ব্যবধান নিশ্চিত করে কানাডা, আর গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় উৎসব।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘বি’-এর শীর্ষস্থানেও উঠে গেছে কানাডা। বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের শক্ত বার্তা দিয়ে তারা জানিয়ে দিল, এবার তারা শুধুই অংশ নিতে আসেনি, লড়াই করতেও এসেছে।
ঐতিহাসিক এই ম্যাচটি দেখতে বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী Mark Carney। তিনি ফিফা প্রেসিডেন্ট Gianni Infantino-এর সঙ্গে একটি বক্সে বসে পুরো ম্যাচ উপভোগ করেন।
এর মাধ্যমে চলমান বিশ্বকাপে কোনো আয়োজক দেশের প্রথম নেতা হিসেবে মাঠে বসে খেলা দেখার নজিরও গড়েন তিনি।
ম্যাচ শেষে উদযাপনের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে যখন কার্নি সরাসরি দলের লকার রুমে গিয়ে খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান।
সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, “তোমরা আমাকে গর্বিত করে দিলে। এর চেয়ে বেশি গর্ব আমার কোনোভাবেই হতে পারত না।”
মজার বিষয় হলো, ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ‘কার্নি কার্স’ বা ‘কার্নির অভিশাপ’ নিয়ে রসিকতা করছিলেন। ধারণা ছিল, তার উপস্থিতি দলের জন্য অশুভ হতে পারে।
কিন্তু ম্যাচ শেষে সেই আলোচনা একেবারেই ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। ৬–০ গোলের দুর্দান্ত জয়ের পর অনেকেই বলতে শুরু করেন, কার্নি অভিশাপ নয়, বরং সৌভাগ্য নিয়েই এসেছেন।
ভ্যাঙ্কুভারের এই রাত তাই শুধু একটি জয় নয়; এটি কানাডিয়ান ফুটবলের আত্মবিশ্বাস, সম্ভাবনা এবং নতুন স্বপ্নের প্রতীক হয়ে থাকবে।
বহু প্রতীক্ষার পর পাওয়া এই সাফল্য হয়তো আগামী দিনে বিশ্ব ফুটবলে কানাডার আরও বড় উত্থানের ভিত্তি হয়ে থাকবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

