লস অ্যাঞ্জেলেসে দীর্ঘ সময় ধরে ম্যাচটি এগিয়েছে গোলশূন্য সমতায়। ৭৪ মিনিট পর্যন্ত কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। তবে এরপর যেন বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট।
শেষ ২৩ মিনিট ও যোগ করা সময় মিলিয়ে দর্শকরা উপভোগ করেন পাঁচ গোলের রোমাঞ্চ, যার চারটিই আসে সুইজারল্যান্ডের পক্ষে।
শেষ পর্যন্ত বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দারুণ এক জয় তুলে নেয় সুইসরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখলে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল সুইজারল্যান্ডের। প্রতিপক্ষের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি পাস সম্পন্ন করলেও প্রথমার্ধে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি তারা।
এনদোয়ে ও ফ্রয়েলার সাইড-নেটিংয়ে বল জড়ালেও বসনিয়ার গোলরক্ষক ইব্রাহিম ভাসিলজকে খুব বেশি কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি।
অন্যদিকে ধীরগতির ফুটবল খেলেও কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ গড়ে তোলে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো দলই গোল করতে না পারায় বিরতিতে যায় গোলশূন্য সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ৫৬ মিনিটে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় সুইজারল্যান্ড।
জাকার ক্রস থেকে এনদোয়ে দুর্দান্ত এক বাইসাইকেল কিকে শট নিলেও অসাধারণ দক্ষতায় সেটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন ভাসিলজ।
ছয় মিনিট পর আবারও নিজের নৈপুণ্যের প্রমাণ দেন বসনিয়ার এই গোলরক্ষক। এম্বোলোর শক্তিশালী হেড ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন তিনি।
তবে ৭৪ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। বদলি হিসেবে মাঠে নামা দুই খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে অবশেষে এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড।
ভার্গাসের ক্রস থেকে বল পেয়ে কাছ থেকে দুর্দান্ত ভলিতে গোল করেন জোহান মানজাম্বি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাওয়া সেই গোলই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
এর মাত্র ছয় মিনিট পর আরও বড় ধাক্কা খায় বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। গোলের সুযোগ তৈরি করা ব্রিল এম্বোলোকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন শেষ ডিফেন্ডার মুহারেমোভিচ। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বসনিয়া।
সংখ্যাগত এই সুবিধা কাজে লাগাতে ভুল করেনি সুইসরা। ৮৪ মিনিটে এম্বোলোর নিখুঁত পাস থেকে রেনাতো ভার্গাস গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৯০ মিনিটে আবারও জালের দেখা পায় সুইজারল্যান্ড।
অধিনায়ক গ্রানিত জাকার পাস থেকে ভার্গাস বল বাড়িয়ে দেন মানজাম্বির কাছে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই মিডফিল্ডার, আর স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-০।
তবে ম্যাচে তখনও কিছুটা নাটকীয়তা বাকি ছিল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামার পরপরই মাহমিচ দুর্দান্ত এক ভলিতে গোল করে ব্যবধান কমান।
এতে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা কিছুটা আশা ফিরে পেলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
শেষ দিকে আবারও আক্রমণে যায় সুইজারল্যান্ড। যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে বক্সের ভেতর সোকে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।
স্পটকিক থেকে নির্ভুল শটে গোল করে নিজের নামও স্কোরশিটে তোলেন অধিনায়ক গ্রানিত জাকা।
এর মধ্য দিয়ে পাঁচ গোলের রোমাঞ্চে ভরা ম্যাচে ৪-১ গোলের দাপুটে জয় নিশ্চিত করে সুইজারল্যান্ড।
দীর্ঘ সময় গোলের অপেক্ষার পর শেষ মুহূর্তে সুইসদের ঝড়ো ফুটবলই পার্থক্য গড়ে দেয়, আর হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

