যোগব্যায়াম শুধু শরীরচর্চা নয়, এটি একটি জীবনদর্শন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, শরীর ও মনের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির পাশাপাশি যোগব্যায়াম আত্মিক শান্তি ও মানসিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের উদ্যোগে ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) বিকেলে নৌবাহিনী কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রামের যোগব্যায়াম অনুরাগীদের নিয়ে এ দিবস উদযাপন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।
এ বছরের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—‘ইয়োগা ফর হেলদি এজিং’।
অনুষ্ঠানে ৮০০-এর অধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্টজনসহ যোগব্যায়াম অনুরাগীরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
মেয়র তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, করোনাভাইরাস আমাদের শিখিয়েছে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক প্রশান্তি কতটা জরুরি।
যোগচর্চা এই দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত যোগব্যায়াম মানুষকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
চট্টগ্রামে যোগচর্চার প্রসার নিয়ে তিনি বলেন, নগরবাসীর মধ্যে যোগব্যায়ামের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
স্কুল, অফিস ও কমিউনিটি সেন্টারে নিয়মিত যোগচর্চা চালু করা গেলে নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও মনোবল আরও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হারীশ কুমার স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, যোগ একটি প্রাচীন অনুশীলন, যার অর্থ ‘যুক্ত হওয়া’ বা ‘একত্রিত হওয়া’।
এটি দেহ, মন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে সামগ্রিক সুস্থতা অর্জনে সহায়তা করে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৫ হাজার বছর আগে ভারতীয় উপমহাদেশে যোগের উৎপত্তি হলেও এটি শুধু শারীরিক ব্যায়াম নয়; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনধারা।
এটি শারীরিক প্রাণশক্তি, মানসিক স্বচ্ছতা এবং আধ্যাত্মিক প্রশান্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রতি বছর ২১ জুন বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত হয়। ভারতের উদ্যোগে জাতিসংঘ ২০১৪ সালে এই দিবসকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।
এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’—যা বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সুস্বাস্থ্য, নমনীয়তা, মানসিক স্থিতি ও জীবনীশক্তি ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে।
শ্রী হারীশ কুমার বলেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস মানসিক চাপ কমায়, শরীরকে সক্রিয় রাখে এবং সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করে।
তাই একটি সুস্থ, সুখী ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গঠনে যোগকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করা জরুরি।
তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, “যোগ আমাদের সকলকে সংযুক্ত করে ও একত্রিত করে। যখন যোগ জীবনযাত্রার অংশ হয়ে ওঠে, তখন তা মানব ঐক্যের ভিত্তি স্থাপন করে।”
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন যোগ অনুশীলন পরিচালনা করে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

