মৃত্যুর স্তূপে আশার আলো, ছয় দিন পর জীবিত মিলল ক্লিবার মোরান

প্রকাশিত: ০১ জুলাই, ২০২৬ ১৩:০৩

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা হাজারো মৃত্যু আর ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও মিলেছে এক অবিশ্বাস্য স্বস্তির খবর।

ভূমিকম্পের ছয় দিন পর লা গুয়াইরা রাজ্যের ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তিন বছরের শিশু ক্লিবার মোরানকে। দীর্ঘ সময় পর এই উদ্ধারকে দেশজুড়ে আশার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার (১ জুলাই) বিবিসি জানায়, জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল শিশুটিকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ক্লিবারকে বাইরে নিয়ে আসতেই উপস্থিত সবাই উল্লাসে ফেটে পড়েন।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ক্লিবারের এই উদ্ধার প্রমাণ করেছে—সব আশা শেষ হয়ে যায়নি। এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত বুধবার দেশটিতে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সর্বশেষ হিসাবে এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। এছাড়া হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ।

জর্ডানের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ক্লিবারকে উদ্ধার করার পর তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।

ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ জানান, রাজধানী কারাকাসে ক্লিবারের চিকিৎসা চলছে।

সাধারণত বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিনকে উদ্ধারকাজের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়, যাকে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলা হয়।

এই সময়ের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা কাউকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা দ্রুত কমে যায়। সেই বাস্তবতায় ছয় দিন পর ক্লিবারের জীবিত উদ্ধার বিরল ও ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি লা গুয়াইরা। সেখানে বহু মানুষ এখনও নিজেদের উদ্যোগেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খোঁজ করছেন। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও মৌলিক সেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে।

জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, ভেনেজুয়ায় এখন হাজার হাজার মানুষের জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের প্রয়োজন।

নাসার স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণ বলছে, ভূমিকম্পে ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত অথবা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, আগামী ছয় মাসে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৩০ হাজার মানুষের জন্য সুরক্ষা, মৌলিক ত্রাণসামগ্রী ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা চরম চাপের মুখে রয়েছে।

সংস্থাটির মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার বলেন, টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো টিকায় প্রতিরোধযোগ্য রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোসহ কয়েকটি দেশের আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষিত কুকুর ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। লা গুয়াইরাসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রও খোলা হয়েছে।

অন্যদিকে, বহু পরিবার ইতোমধ্যে স্বজনদের মরদেহ দাফন শুরু করেছে। আবার অসংখ্য মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ প্রিয়জনের কোনো খোঁজের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

সূত্র: বিবিসি