কক্সবাজার থেকে স্কুটি হাঁকিয়ে আসছিলেন মাঝবয়সী এক ব্যক্তি। বাহনটি ছিমছাম, চালকের চোখে-মুখেও ছিল না কোনো তাড়াহুড়ো।
কিন্তু বাঁশখালী থানার সামনে আসতেই নিয়তির চাকা যেন হঠাৎ থমকে গেল। পুলিশের নিয়মিত তল্লাশির মুখে পড়েন তিনি।
আর তাতেই বেরিয়ে এলো এক থমকে যাওয়ার মতো তথ্য—স্কুটির সামনের অংশে রাখা সাধারণ একটি কাঁধের ব্যাগের ভেতরেই লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ৩০ হাজার পিস ইয়াবা!
শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার দক্ষিণ জলদী এলাকায় অত্যন্ত চতুরতার সাথে পরিচালিত এই অভিযানে জিয়া (৪০) নামের ওই মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ইয়াবা পরিবহনের দায়ে তার ব্যবহৃত স্কুটিটিও জব্দ করা হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাঁশখালী থানা পুলিশ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আটক মো. জিয়া কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল এলাকার পুতুইন্না পাড়ার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে বাঁশখালী থানার ঠিক সামনের দক্ষিণ জলদী এলাকায় একটি বিশেষ টিম অবস্থান নেয়।
সন্দেহভাজন যানবাহনগুলোতে তল্লাশি চালানোর সময় ওই স্কুটি আরোহীকে থামার সংকেত দেওয়া হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালকের আচরণে সন্দেহ হলে পুলিশ স্কুটির সামনের অংশে থাকা একটি কাঁধের ব্যাগে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকেই একে একে বেরিয়ে আসে ৩০ হাজার পিস লালচে ইয়াবা।
আনোয়ারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান বলেন, “মাদক চক্রটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে স্কুটির মতো ব্যক্তিগত বাহন ব্যবহার করছিল।
আমরা ৩০ হাজার ইয়াবাসহ পরিবহনটি জব্দ করেছি। এ ঘটনায় বাঁশখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আটক হওয়া আসামি মো. জিয়াকে ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এই চক্রের পেছনে আর কারা জড়িত এবং এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা চট্টগ্রামের কোথায় সরবরাহ করার কথা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

