গভীর রাতে উত্তাল বঙ্গোপসাগর তখন নিস্তব্ধ। সেই নিস্তব্ধতা চিরে রুটিন টহলে ছিল বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জাহাজ ‘কুতুবদিয়া’ ও ‘আউটপোস্ট পতেঙ্গা’র সদস্যরা।
ঠিক তখনই গোপন সূত্রে খবর আসে-মিয়ানমার থেকে জলপথ ব্যবহার করে আসছে মাদকের এক বিশাল চালান। দীর্ঘদিনের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুরু হয় সুক্ষ্ম নজরদারি।
রোববার দিবাগত রাত তখন আনুমানিক ৩টা। পতেঙ্গার বহিঃনোঙর সমুদ্র এলাকায় একটি সন্দেহভাজন ট্রলার বা বোটের গতিবিধি দেখে থমকে দাঁড়ান কোস্ট গার্ডের চৌকস সদস্যরা।
সাথে সাথে দেয়া হয় থামার সংকেত। কিন্তু কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চালক বোটের গতি বাড়িয়ে দিয়ে অন্ধকারের সুবিধা নিয়ে পালানোর মরিয়া চেষ্টা চালায়।
শুরু হয় সাগরের বুকে এক রুদ্ধশ্বাস ধাওয়া। কোস্ট গার্ড সদস্যরাও দমে যাওয়ার পাত্র নন। কৌশলগত দক্ষতা ও দূরদর্শিতা কাজে লাগিয়ে বোটটিকে ঘিরে ফেলে আটক করতে সক্ষম হন তারা।
পরবর্তীতে ট্রলারটিতে তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায় ২ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা!
ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় মাদক পাচারে জড়িত দুই কারবারিকে এবং জব্দ করা হয় পাচারে ব্যবহৃত বোটটি।
সোমবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযানের আদ্যোপান্ত জানান কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছে-তারা একটি আন্তর্জাতিক ও সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্য।
মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৌশলে ইয়াবার এই বিশাল চালানটি সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছিল।
তবে কোস্ট গার্ডের সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি ও কঠোর তৎপরতার কারণে তাদের সেই নীল নকশা ভেস্তে গেছে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
পাশাপাশি এই চক্রের পেছনের মূল হোতা ও অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কোস্ট গার্ডের বিশেষ গোয়েন্দা অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

