১০৮ ঘণ্টার গর্জন থামিয়ে শান্ত কাপ্তাই

বন্ধ জলকপাট-পাহাড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস!

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬ ১৫:২২

টানা ১০৮ ঘণ্টা ধরে যে জলরাশি গর্জে উঠে বয়ে যাচ্ছিল কর্ণফূলীর বুকে, অবশেষে তার অবসান ঘটল।

কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর নিরাপদ সীমায় নেমে আসায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধের ১৬টি জলকপাট (স্পিলওয়ে)।

গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টায় জলকপাটগুলো পুরোপুরি বন্ধ করা হয়।

এর মধ্য দিয়ে উজানের বন্যা ও ভাটির প্লাবন শঙ্কার মুখ থেকে পাহাড়ি জনপদ ও আশপাশের এলাকাগুলোতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে এসেছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, হ্রদে পানির উচ্চতা এখন সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত ও নিরাপদ সীমার মধ্যে রয়েছে।

গত ৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধীরে ধীরে ফুলে-ফেঁপে ওঠে হ্রদের পানি।

কাপ্তাই হ্রদের উপচে পড়া পানিতে দেখা দেয় উজানে বন্যার পরিস্থিতি।

জনজীবন ও বাঁধের সুরক্ষা বিবেচনায় গত শনিবার (১৮ ১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় তড়িঘড়ি করে ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়।

প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি আছড়ে পড়তে থাকে কর্ণফুলী নদীতে।

টানা সাড়ে চার দিন ধরে পানি নিষ্কাশনের পর অবশেষে বৃষ্টি কমে আসে, শান্ত হতে শুরু করে পাহাড়ের নদ-নদী।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, কাপ্তাই হ্রদের বর্তমান পরিস্থিতি পানির উচ্চতা  ১০৩.২৬ ফুট এমএসএল (বুধবার রাত ১১টায় পরিমাপকৃত), বিপদসীমা ১০৮.৫০ ফুট এমএসএল ও সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯.০০ ফুট এমএসএল।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা আপাতত নিরাপদ সীমায় আসায় কেন্দ্রের ১৬টি জলকপাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পানির স্তর আবার বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জলকপাট বন্ধ হলেও হ্রদের বিশাল জলরাশি কিন্তু বৃথা যাচ্ছে না। দেশের একমাত্র এই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিটই বর্তমানে পূর্োদমে চালু রাখা হয়েছে।

এর ফলে কাপ্তাই হ্রদ থেকে প্রতি সেকেন্ডে ৩২ হাজার কিউসেক পানি অপসারিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, যা সরাসরি যুক্ত হচ্ছে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে।

প্রকৃতির রুদ্ররূপ সামলে একদিকে যেমন রক্ষা পেল পাহাড়ি জনপদ, অন্যদিকে সেই জলধারা ব্যবহার করেই দেশজুড়ে পৌঁছে যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত আলো।

প্রকৃতি ও মানুষের এই সহাবস্থানে স্বস্তি ফিরেছে রাঙামাটিসহ পুরো চট্টগ্রাম অঞ্চলে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি