যমুনা অয়েলের জিএম মাসুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়-অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের কমিটি

অভিযোগের পর নড়েচড়ে বসেছে বিপিসি

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৫০

জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলার স্বার্থে ও বিটুমিন সরবরাহে অনিয়ম-হয়রানি বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।

যমুনা অয়েল কোম্পানি পিএলসি’র মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মাসুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিটুমিন সরবরাহে গ্রাহক ও সংশ্লিষ্টদের হয়রানি করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিপিসি।

বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক জরুরি অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয়।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের পরিকল্পনা বিভাগের আদম মুহাম্মদ আসাদুল হককে এই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।

কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন-যমুনা অয়েল পিএলসি’র মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মোহাম্মদ হাসান ইমাম এবং বিপিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) মোঃ ইসতিয়াক হোসেন।

কমিটিকে বিটুমিন সরবরাহে হয়রানির সার্বিক অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে আগামী ১৫ (পনেরো) কার্যদিবসের মধ্যে বিপিসির চেয়ারম্যান বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যে কারণে তোলপাড় জ্বালানি খাতে
দেশের সড়ক ও অবকাঠামো অবকাঠামো উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে বিটুমিন। অভিযোগ রয়েছে, যমুনা অয়েল পিএলসি থেকে বিটুমিন খালাস ও সরবরাহের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের নানামুখী প্রশাসনিক জটিলতা ও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছিল।

এই সিন্ডিকেট বা হয়রানির নেপথ্যে প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক মো. মাসুদুল ইসলামের নাম উঠে আসায় বিভাগীয় পর্যায়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে স্বারক নম্বর ২৮.০০.০০০০.০০.০০.০৯১৮.৫২৩/১(৮)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের পরিচালক (পরিকল্পনা), ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে চিঠির অনুলিপি পাঠিয়ে অবগতির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে যমুনা অয়েল কোম্পানি পিএলসি’র মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মাসুদুল ইসলামের মুঠোফোনে না পেয়ে তার হোয়াটসঅ্যাপে কিছু প্রশ্ন রেখে বার্তা পাঠালে তিনি বলেন সবকিছুই অসত্য, আমার উপর অন্যায় করা হয়েছে।

তবে জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিপিসির এই তাৎক্ষণিক তদন্ত নির্দেশনার ফলে বিটুমিন খাতের অসচ্ছতা দূর হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পথ সুগম হবে।

এখন সবার নজর তদন্ত কমিটির ১৫ দিনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের দিকে।

তদন্ত প্রতিবেদনের আপডেট এবং চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিনের অনুসন্ধানী টিমের হাতে আসা তথ্যসহ পরবর্তী প্রতিবেদন শীঘ্রই প্রকাশিত হবে। চোখ রাখুন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি