দুপুরের ব্যস্ত সড়ক। চারপাশে মানুষের আনাগোনা, যানবাহনের তীব্র হর্ন। এরই মধ্যে হঠাৎ যেন কোনো অ্যাকশন সিনেমার চিত্রনাট্য বাস্তব রূপ নিল নগরের প্রাণকেন্দ্র লাভলেইন মোড়ে।
কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটি পিকআপ ভ্যান ঘেরাও করল সংঘবদ্ধ একদল দুর্বৃত্ত। এরপর হাঁকডাক, চাঁদা দাবি, বাধা দিতেই চলল লোহার রডের নৃশংস তাণ্ডব। মুহূর্তেই চোখের সামনে থেকে হাওয়া হয়ে গেল প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের বিদেশি সিগারেট।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর সোয়া ১টার দিকে কাজীর দেউড়ির এসএ পরিবহন অফিস থেকে ৭৮ মাস্টার কেস বিদেশি সিগারেট বোঝাই করে রিয়াজউদ্দিন বাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল একটি পিকআপ ভ্যান।
গাড়িতে ছিলেন চালক মো. আনোয়ার হোসেন ও হেলপার মো. জাহিদ। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে লাভলেইন মোড়ের অ্যাপোলো-১১ পেট্রোল পাম্পের পূর্ব পাশে পৌঁছানো মাত্রই আকস্মিক পথরোধ করে দাঁড়ায় ওতপেতে থাকা দুর্বৃত্তরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, গাড়ি থামিয়েই চালক আনোয়ারের কাছে এককালীন ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে চক্রটি। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় শুরু হয় অকথ্য গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি।
একপর্যায়ে চালককে বেধড়ক কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে তারা। চালককে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন হেলপার জাহিদ, কিন্তু তার ওপর নেমে আসে চরম নৃশংসতা। দুর্বৃত্তরা লোহার রড দিয়ে সজোরে আঘাত করলে জাহিদের নাক মারাত্মকভাবে ফেটে রক্তে ভেসে যায়।
গাড়ির চালক ও হেলপারকে রক্তাক্ত ও স্তব্ধ করে দিয়ে দ্রুততম সময়ে পিকআপে থাকা ৭৮ মাস্টার কেস সিগারেট অন্য একটি অজ্ঞাত গাড়িতে তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
আহতদের চিৎকারে আশপাশের পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে ‘মামলা করলে প্রাণনাশ করা হবে’ এমন হুমকি দিয়ে চম্পট দেয় হামলাকারীরা।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত আনোয়ার ও জাহিদকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় মো. হৃদয়, শুরুর, নয়ন, ফরহাদ, মো. শফি আলম, মো. আদি এবং মো. আফসার-এই সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার পেছনের মূল আসামিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশের জোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নগরের প্রাণকেন্দ্রে এমন দুঃসাহসিক ও সুপরিকল্পিত লুটের ঘটনায় রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মহলে চরম উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


