নামসর্বস্ব এক প্রতিষ্ঠান, কাগজে-কলমে ভুয়া মালিক আর অন্তরালে ক্ষমতার দাপট-এই তিনের সংমিশ্রণে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে খোয়া গিয়েছিল ২৫ কোটি টাকা। সেই টাকা আবার সুচতুর উপায়ে হুন্ডির মাধ্যমে পাচার হয়ে গেছে বিদেশে।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বহুল আলোচিত এই অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার মামলায় এবার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত হলেন আরও চারজন সাক্ষী।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে এই চার সাক্ষীর জেরা ও সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় মোট ৫৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো। আদালতের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৪ অক্টোবর।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রোববার দুদকের পক্ষ থেকে চারজন সাক্ষীকে উপস্থাপন করা হলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা সম্পন্ন করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যবর্তী সময়ের।
আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে রাতারাতি ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামের একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিক বানিয়ে ফেলা হয়। এরপর ইউসিবি ব্যাংক থেকে প্রভাব খাটিয়ে অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হয় ২৫ কোটি টাকার ঋণ।
টাকা উত্তোলন হওয়ার পর ব্যাংকিং চ্যানেলে না রেখে হুন্ডির কৌশল অবলম্বন করে তা সরাসরি বিদেশে পাচার করা হয় এবং কেনা হয় বিলাসবহুল স্থাবর সম্পত্তি।
চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন (অভিযোগপত্র) জমা দেন।
এতে প্রধান আসামি করা হয় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে। তার সাথে অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছেন তার স্ত্রী ও ইউসিবির সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী এবং রোকসানা জামান চৌধুরীসহ ব্যাংকটির একাধিক তৎকালীন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও আরামিট গ্রুপের কর্মচারীরা।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই দুদকের পক্ষ থেকে সাবেক মন্ত্রী জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে আরও সাতজনের অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্রে মোট ৯২ জনকে সাক্ষী করা হলেও প্রাথমিক এজাহারভুক্ত ৩১ জনের মধ্যে দুজন মারা যাওয়ায় তাদের নাম বিচারিক প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের গতি দেখে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বহুল আলোচিত এই ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচার মামলার আইনি পরিণতি এখন অনেকটাই নিষ্পত্তির দিকে এগোচ্ছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


