চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন এর অনুকরণে এলাকা কাঁপিয়ে তোলা কিশোর গ্যাং লিডার ডেভিড জিহাদকে অবশেষে আটক করেছে লোহাগাড়া থানা-পুলিশ।
গত রোববার রাতে উপজেলার আমিরাবাদ স্টেশন এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে জালে তোলে।
নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই ডেভিড জিহাদের বিরুদ্ধে রয়েছে স্কুলশিক্ষককে প্রকাশ্য হুমকি, কিশোর গ্যাং পরিচালনা এবং একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ।
একটি অপহরণ ও শিক্ষকের মুঠোফোনে ঔদ্ধত্যের বার্তা ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ আগস্ট। লোহাগাড়ার ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহকে (১৫) স্কুল প্রাঙ্গণ থেকেই তুলে নিয়ে যায় কিশোর গ্যাংয়ের একদল সদস্য।
খবর পেয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন সুমন সহকর্মী নাজিমকে সঙ্গে নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন।
ঘটনার সত্যতা পেয়ে শিক্ষকদ্বয় বটতলী স্টেশনের ‘ইনসাফ রেস্টুরেন্ট’ এর সামনে থেকে অপহরণের পেছনে জড়িত শিক্ষার্থী আয়ানকে আটক করেন।
যদিও মারধরে জড়িত অন্য কিশোররা ততক্ষণে সটকে পড়ে। পরবর্তীতে আয়ানকে লোহাগাড়া থানা-পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়।
আইনের আশ্রয় নেওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে অপরাধীদের চক্রটি।
প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন সুমনের মুঠোফোনে ভেসে আসে একটি হুমকি ফোন। অডিও রেকর্ডে কড়া ও হুমকিসংবলিত গলায় অপর প্রান্ত থেকে গর্জে ওঠে কণ্ঠ-আমি ডেভিড জিহাদ। আপনি থানায় গিয়ে মামলা দেন। আপনার ফ্যামিলির প্রত্যেকটা মানুষ, আপনার ছেলে-আপনি ভুল জায়গায় হাত দিছেন, বুঝছেন!
হুমকির পর রক্তক্ষয়ী হামলা হুমকি এবং সমঝোতার আলোচনার মধ্যবর্তী সময়েই ঘটে আরও একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা।
গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের শহীদ মেজর নাজমুল হক সড়কে বিদ্যালয়ের অন্য এক শিক্ষক নজরুল ইসলামের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় গ্যাং সদস্যরা।
ডেভিড জিহাদের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে শিক্ষক নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাতসহ শরীরের অন্তত পাঁচটি স্থানে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষকের পরিবার বাদী হয়ে লোহাগাড়া থানায় মামলা দায়ের করে। দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক প্রধান আসামিদের ধরতে পুলিশের ওপর জনদাবি জোরালো হচ্ছিল।
আইনের মুখোমুখি ডেভিড জিহাদ অবশেষে লোহাগাড়া থানা-পুলিশের আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডেভিড জিহাদকে আটক করতে সক্ষম হয়।
লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তার গ্যাংয়ের অন্যান্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই পদক্ষেপে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষক সমাজে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সুশীল সমাজের দাবি, কোনো অপশক্তির মদদেই যেন অপরাধীরা ছাড় না পায়।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


