ডবলমুরিং ও সিইপিজেডে পৃথক সড়কে প্রাণ হারালেন ৩ জন

প্রিয়জনদের হারিয়ে পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৫

চট্টগ্রাম নগরে ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে একটি নারীসহ তিনটি তাজা প্রাণ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালের আলো ফুটতেই সিইপিজেডের ৫ নম্বর সড়কে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া।

সকাল ঠিক ৯টার দিকে একটি বেপরোয়া পিকআপভ্যান সজোরে ধাক্কা দেয় একটি মোটরসাইকেলকে। এতে বাইকে থাকা দুই পোশাক শ্রমিক গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর পর ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান ‘স্মার্ট জ্যাকেট’এর সুপারভাইজার ছোটন।

তবে নিয়তির নির্মম পরিহাস, চমেক হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত দুজন হলেন-শ্রমিক তামান্না এবং তাঁর সহকর্মী মো. খলিল। তামান্নার স্থায়ী ঠিকানা বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে হলেও তিনি নগরের কলসির দীঘির পাড় এলাকার ওয়াসিম চৌধুরী পাড়ায় বসবাস করতেন।

আর নিহত খলিল থাকতেন ইপিজেডের ফ্রি পোর্ট, নিউমুরিং এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মৃত গোলাম মোস্তফা এবং মায়ের নাম নুর জাহান বেগম।

চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক জানান, অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল, কিন্তু চিকিৎসকরা তাদের বাঁচাতে পারেননি। বর্তমানে তাঁদের মরদেহ চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এর আগে, ঠিক আগের দিন বুধবার (৭ অক্টোবর) গভীর রাতেও ঘটেছিল আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা। রাত ১১টা ৩৩ মিনিটে ডবলমুরিং থানার ডিটি রোডের ধনিয়ালাপাড়া রাস্তার মাথায় একটি ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

বেপরোয়া গতি আর অন্ধকার রাতের এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন মোটরসাইকেল আরোহী মাছুম।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকেও মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মাছুম ডবলমুরিং থানার ধনিয়ালাপাড়ার মগবুল মঞ্জিল এলাকার বাসিন্দা এবং তাঁর বাবার নাম মৃত রমজান আলী। মাছুমের মরদেহও রাখা হয়েছে হাসপাতালের মর্গে।

একই নগরী, দুটি পৃথক স্থান, কিন্তু একই করুণ পরিণতি। প্রিয়জনদের হারিয়ে এখন পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি