বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে ‘লো ইন্টেনসিটি অপারেশন ‘ চালানো হচ্ছে-আরিফ সোহেল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:৩০

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে ‘লো ইন্টেনসিটি অপারেশন’ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আয়নাঘরে গুমের শিকার মূল সাতজন সমন্বয়কের অন্যতম নেতা আরিফ সোহেল। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা বিপ্লবীদের একটি সুরক্ষায় তিন দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।

জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সদ্য পদত্যাগী এই নেতা শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে তার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা লেখেন।

আরিফ সোহেল লেখেন, ‘জুলাইয়ের সম্মুখসারির লড়াকুদের দীর্ঘদিন ধরে সুপরিকল্পিতভাবে টার্গেট করে শারীরিক ও সামাজিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে।

আপনারা গত কয়েক মাসের সংবাদপত্র আর মিডিয়া খেয়াল করলে দেখবেন প্রায় প্রতিনিয়তই জুলাইয়ের অভ্যুত্থানকারীদের অথবা তাঁদের পরিবারের কেউ না কেউ হয় সরাসরি শারীরিক আক্রমণের স্বীকার হয়েছেন অথবা তাদের যথাযথ প্রমাণ ছাড়াই সামাজিক বা আইনগতভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।
সংবাদপত্রের চিপায় চাপায় ছোটো ছোটো কলামে এই খবরগুলো চাপা পড়ে গিয়েছে। কিন্তু একসাথে ট্রেন্ড আকারে গত কয়েকমাসের এ সবগুলো খবর চোখের সামনে মেলে ধরলে জুলাইয়ের রাজপথের সৈনিকদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত একটা ক্যামোফ্লাজড ‘লো ইন্টেনসিটি অপারেশন’র ডিজাইন স্পষ্ট হয়।

Low Intensity Operation বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড রোধে ও বিপ্লবীদের দমন পীড়নে পরীক্ষিত একটি পদ্ধতি যা আন্তর্জাতিকভাবে সফলতার েসাথে ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকায় বিপ্লবীদের দমন, পীড়নে ব্যবহৃত হয়েছে।

লো ইনটেনসিটি অর্থ এইটা এতোই মৃদুভাবে, সাড়া-শব্দ না করেই চালানো হয় যে সামাজিক জীবনে আলাদা করে প্রভাব টের পাওয়া যায় না।
এই লো ইনটেনসিটি অপারেশনকে এই মূহুর্তে বাংলাদেশে ক্যামোফ্লাজ (Camouflage) করে পরিচালনা করা হচ্ছে। সামাজিকভাবে জুলাইয়ের আন্দোলনকারীদের হেয় করতে ভুয়া অভিযোগ সৃষ্টি করে তাদের দমনযোগ্য করে তোলাই এই ক্যামোফ্লাজের উদ্দেশ্য। ক্যামোফ্লাজ এই জন্যেই বলছি কেননা এইভাবে দমন চালালে এটাকে দমন মনে হবে না বরং আন্দোলনকারীদের হ্যারাস করাটাকে জাস্টিফাইড আকারে উপস্থাপন করা যাবে।
হাদী ভাইকে শহীদ করা, যথাযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই সুরভীকে গ্রেফতার এবং আজকে হবিগঞ্জের মাহদীকে তুলে নিয়ে যাওয়া এই অপারেশনের দ্বিতীয় ফেইজ (Phase 2) হিসেবে রীড করছি। সর্বশেষ ফেইজে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকেই সরাসরি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হবে, পুরোনো মামলাগুলো জাগ্রত করা হবে এবং নতুন মামলা করে সব গণঅভ্যুত্থানকারীকে প্রসিকিউট করা হবে।

এই মূহুর্তে বিপ্লবীদের প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ হওয়া, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মী হিসেবে নিজেকে প্রশিক্ষিত করা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মর্যাদাকে সামাজিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে সুসংগঠিত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসর ও তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া। এ লক্ষ্যে আমি এবং আমার কমরেডগণ নিম্নোক্ত কর্মসূচিগুলো হাতে নিচ্ছি:

১। জুলাইয়ে রাজপথে সক্রিয় ও গুলির মুখে আক্রান্ত নিরস্ত্র জনগণের প্রতিরক্ষায় বীরত্বসূচক অবদান রাখা বীরদের সামাজিক স্বীকৃতি প্রদান ও তাঁদের বীরত্বের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায়।

২। জুলাইয়ে রাজপথে থাকার ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ভুগছেন এমন অভ্যুত্থানকারী ও বিপ্লবীদের একটি সুরক্ষা নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা এবং ইতিমধ্যেই আক্রান্তদের (হবিগঞ্জের মাহদী….) নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করা।

৩। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এখনো রাজপথে সক্রিয় অ্যাক্টিভিস্ট ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন/সংগঠনের কর্মীদের ‘নিরাপত্তা ও কর্মপন্থা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রশিক্ষিত করে তোলা ও এই তিনটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমি এবং আমার কমরেডরা ইতোমধ্যেই সক্রিয় হয়েছি। আপনাদের সকলের আন্তরিক সমর্থন আশা করছি।

আমাদের উদ্যোগে সরাসরি অংশ নিতে মেইল করুন ফটোকার্ডে দেওয়া ইমেইল এড্রেসে অথবা কিউআর কোড (QR Code) স্ক্যান করে গুগল ফর্ম পূরণ করুন (কমেন্টে লিংকও শেয়ার করা হয়েছে)। ইনকিলাব জিন্দাবাদ!