back to top

টাকা আত্মসাৎ করে সরকারি কর্মকর্তার আত্মগোপনের অভিযোগ!

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৭:৫৪

সরকারি চাকরির আড়ালে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার এক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম রাজিব দে (আনুমানিক বয়স ৩৭)। তিনি চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী হিন্দুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চকরিয়া কার্যালয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজিব দে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পরিচয় ও স্থানীয় পরিচিতির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধার ও বিনিয়োগের নামে টাকা হাতিয়ে নেন।

শুরুতে অল্প অঙ্কের টাকা নিয়ে নির্ধারিত সময়ে ফেরত দিয়ে মানুষের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করতেন। পরে সেই বিশ্বাসকে পুঁজি করে লাখ লাখ টাকা নিতেন।

একাধিক ভুক্তভোগী জানান, তিনি সুদ বা লাভের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নিতেন এবং বিনিময়ে ব্যাংকের চেক দিতেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেই চেকগুলো ডিজঅনার হয়।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন নারী-পুরুষ, এনজিও কর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এমনকি অভিযুক্তের অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।

অনেকেই সঞ্চিত অর্থ, ব্যবসার পুঁজি কিংবা পারিবারিক জমানো টাকা হারিয়ে আজ নিঃস্ব।

এক ভুক্তভোগী নারী (ছদ্মনাম সুরভী পাল) জানান, এনজিওতে সঞ্চিত প্রায় ১০ লাখ টাকা বিশ্বাস করে রাজিব দে’র হাতে তুলে দেন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

আরেক ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম জানান, জমি কেনার কথা বলে তার কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। বিনিময়ে দেওয়া চেকটি পরে ডিজঅনার হয়।

স্থানীয়দের দাবি, এই প্রতারণার ফলে অনেক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। কেউ কেউ ভিটেবাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার কারও সংসার ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সামাজিক মর্যাদা হারানোর ভয়ে অনেকে এখনও মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

জানা গেছে, ভুক্তভোগীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যে চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চেক ডিজঅনারসহ একাধিক মামলা দায়ের করেছেন। আদালত এসব মামলায় রাজিব দে’র বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। গত তিন থেকে চার মাস ধরে তিনি কর্মস্থলেও অনুপস্থিত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন,‘রাজিব দে’র বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এবং মামলা হওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি।

তিনি কয়েক মাস ধরে অফিসে অনুপস্থিত। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তার বেতন-ভাতা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।’

এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন,‘বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি। আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযুক্ত রাজিব দে’র মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নেই।