back to top

বিদায়ের আবেশে চট্টগ্রাম: চৈত্র সংক্রান্তির দিনজুড়ে সংস্কৃতির রঙ

প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:৩৯

সিটিজি নিউজ টুডে : চট্টগ্রামের আকাশে আজ এক অদ্ভুত মায়া। ভোরের সোনালি আলো ফুটতেই যেন প্রকৃতি নিজেই জানিয়ে দিল-একটি বছরের বিদায়ঘণ্টা বেজে উঠেছে।

আজ চৈত্র সংক্রান্তি। বাংলা সনের শেষ দিন। বিদায়ের বিষণ্নতা আর নতুন সূর্যের প্রতীক্ষা মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অনন্য আবহ।

নগরজীবনের ব্যস্ত ছন্দেও আজ যেন এক ধরনের নীরব আবেগ। দোকানপাটে চলছে শেষ মুহূর্তের গোছগাছ।

পুরোনো হিসাবের খাতা বন্ধ করে নতুন বছরের ‘হালখাতা’ খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কোথাও নতুন রঙের প্রলেপ, কোথাও সাজসজ্জা—সবকিছুতেই নতুনকে বরণ করার প্রস্তুতি।

গ্রাম-গঞ্জে এদিনের আবহ আরও গভীর, আরও আত্মিক। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ঘরদোর পরিষ্কার, মাটির দেয়ালে নতুন লেপন।

উঠোন ঝাড়ু দেওয়া, গোয়ালঘর ধোয়া। সব মিলিয়ে যেন পবিত্রতার এক আয়োজন।

আগামীকাল সনাতন ধর্মাবলম্বী গৃহিণীদের ব্যস্ততা থাকবে রান্নাঘরে। বিল-খাল থেকে তুলে আনা শাকসবজি, নিরামিষ নানা পদ আর ঐতিহ্যবাহী সাত রকম তিতো খাবারের প্রস্তুতি।

লোকাচার এখনও জীবন্ত অনেক পরিবারের মাঝে। সনাতনধর্মীয় নারীরা সংসারের মঙ্গল কামনায় পালন করেন ব্রত। অনেকেই এদিন আমিষ পরিহার করেন।

এদিনকার আয়োজনে পিঠা, পায়েস, নারকেলের নাড়ু—যা শুধু খাবার নয়, এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে বয়ে চলা স্মৃতির স্বাদ।

এদিন আত্মীয়তার বন্ধনও যেন নতুন করে জাগে। অনেক পরিবারে মেয়ের জামাইকে নিমন্ত্রণ করার রীতি এখনও অটুট।

নতুন পোশাক, আন্তরিক আপ্যায়ন আর হাসি-আড্ডায় কাটে দিনটি। বিদায়ের মাঝেই যেন লুকিয়ে থাকে মিলনের আনন্দ।

ধর্মীয় আচারেও দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পালন করেন স্নান, দান, ব্রত ও উপবাস।

অন্য ধর্মাবলম্বীরাও নিজেদের বিশ্বাস অনুযায়ী পালন করেন নানা আচার। সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে এক সর্বজনীন সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি।

নগরীর বাজারগুলোতেও আজ উৎসবের ভিন্ন চিত্র। সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন বাজারে সনাতনধর্মাবলম্বীরা পাচক রান্নার জন্য কিনছেন নানা ধরনের সবজি—প্রায় সবকিছু থেকেই একটু একটু করে।

ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম বাজার। সুযোগ বুঝে সবজির দাম কিছুটা বাড়ালেও তাতে আক্ষেপ নেই ক্রেতাদের। কারণ একটাই—বছরের শেষ দিন, আজকের আয়োজনেই যেন পূর্ণতা।

বিশেষ করে, পাথরঘাটা, চকবাজার, আন্দরকিল্লা, কাজির দেউরিসহ সনাতনধর্মাবলম্বীদের বসবাসের আশপাশের বাজারগুলোতে কেনাবেচার এই সরগরম দৃশ্য আরও বেশি চোখে পড়ে।

চৈত্র সংক্রান্তি শুধু একটি দিনের নাম নয়—এটি সময়ের এক সেতুবন্ধন।

এখানে অতীতের স্মৃতি আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন একসূত্রে গাঁথা। তাই চট্টগ্রামের বাতাসে আজ ভেসে বেড়ায় একটাই প্রার্থনা—

“যা কিছু জীর্ণ, যা কিছু ক্লান্ত, সব মুছে যাক; নতুন সূর্যের আলোয় ভরে উঠুক আগামী দিন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি