back to top

ঘুষে নড়ে-চড়ে ফাইল: কমিশনে কোটিপতি রেলের ডিএফএ আব্দুর রহিম!

প্রকাশিত: ০৬ মে, ২০২৬ ১২:৫৭

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাব বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়। এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে।

সরকারি কাজের বিল উত্তোলন থেকে শুরু করে পেনশন প্রক্রিয়াকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে “নির্ধারিত হারে ঘুষ” ছাড়া কোনো অগ্রগতি হয় না বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পেনশন শাখার দায়িত্বে থাকা বিভাগীয় অর্থ উপদেষ্টা (ডিএফএ) মো. আব্দুর রহিম এবং অতিরিক্ত প্রধান অর্থ উপদেষ্টা মো. সাইদুর রহমান। যাদের ঘিরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে সূত্রের দাবি।

সূত্রগুলোর দাবি, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পেনশন ফাইল এগোতে হলে নির্ধারিত অঙ্কের ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ না দিলে ফাইল দিনের পর দিন, এমনকি মাসের পর মাস আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

একাধিক ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, পেনশন ছাড়াও রেলের বিভিন্ন কেনাকাটা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কমিটি গুলোতে প্রভাব খাটিয়ে কমিশন আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে নির্ধারিত হার হিসেবে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয় বলে দাবি সূত্রের।

সূত্রের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘুষ ও কমিশন থেকে অর্জিত অর্থে মো. আব্দুর রহিম চট্টগ্রামের ডবলমুরিংয়ের ঝর্ণাপাড়া এলাকায় জমিসহ চারতলা ভবন ক্রয় করে তা ১৪ তলা পর্যন্ত উন্নীত করার কাজ চলছে।

এছাড়া পাহাড়তলী পিবিআই অফিস সংলগ্ন মোহনা টাওয়ারে একটি টাওয়ারে ফ্ল্যাট, হালিশহর ও আশপাশে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে ডিএফএ মো. আব্দুর রহিমেরর। এছাড়াও নিজ জেলা জয়পুরহাটে মার্কেটসহ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে, দাবি করছে সূত্র।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরিবারের সদস্যদের শিক্ষা ও জীবনযাত্রায় বিপুল ব্যয়, বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে শেয়ার থাকার বিষয়ও সামনে এসেছে। যা তার আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

আরেকটি সূত্রের দাবি, আব্দুর রহিমের নামে থাকা রেলওয়ের লেডিস ক্লাব সংলগ্ন একটি বাংলো নিয়মবহির্ভূতভাবে বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। সেখানে রেলের বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে।

এমনকি পার্কিং এলাকা ভেঙে কক্ষ তৈরি করে ভাড়া দেওয়া এবং গাছ কেটে আলাদা পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার অভিযোগও উঠেছে, যা রেল সম্পদের অপব্যবহার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইলই অগ্রসর হয় না। সম্প্রতি ২০ হাজার টাকা ঘুষের একটি ঘটনা ঘিরে দরকষাকষি ও টাকার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে বলে দাবি সূত্রের।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএফএ মো. আব্দুর রহিম ব্যস্ততার অজুহাতে মন্তব্য করতে রাজি হননি। একাধিকবার ফোন করেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে ঘুষের দরকষাকষি ও টাকার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়গুলো দায়িত্বশীলদের নজরে আসলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় রেল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে অতিরিক্ত প্রধান অর্থ উপদেষ্টা মো. সাইদুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি এসব অভিযোগ সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন এবং প্রতিবেদকের কাছে প্রমাণ চান। পরে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এদিকে অভিযোগকারীদের মতে, কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

অপর একটি সূত্র জানায়, রেলের হিসাব শাখায় প্রায় প্রতিটি টেবিলেই একেকজন রহিম আছে। এদের মাধ্যমে কমিশন আদায় করে উর্ব্ধতনরা ভাগ নিয়ে থাকেন। ফলে কোথাও কোন ত্রুটি বিচ্যুতি হলেও তারা ম্যানেজ করে থাকেন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি