চট্টগ্রামে জনতা ব্যাংকের তিন কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা আত্মসাতের দায়ে পাঁচ সাবেক কর্মকর্তাকে আট বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে দণ্ডিত প্রত্যেককে ৪৬ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১০ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে একই শাখার আরেক সাবেক কর্মকর্তা নুরুল হুদাকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডিতরা হলেন—জনতা ব্যাংকের শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার সাবেক কর্মকর্তা ও আনোয়ারা উপজেলার দেওতলা এলাকার আবু তৈয়ব, একই শাখার সাবেক কর্মকর্তা ও ফেনী জেলার সদর থানার ধনিয়া এলাকার বাবুল চন্দ্র মজুমদার, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মজুমদারখীল এলাকার রনেন্দ্র বিকাশ সাহা, ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজপানুয়া এলাকার মোসলেম উদ্দিন এবং জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সাবেক এসপিও (আইডি রিকন) ও টাঙ্গাইল জেলার আদালতপাড়া এলাকার সাঈদ হোসেন।
রায় ঘোষণার সময় পাঁচ আসামিই আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, জনতা ব্যাংক চট্টগ্রামের শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা ও গ্রাহক যোগসাজশে ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাব থেকে অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর করেন।
পরে সেই অর্থ বিভিন্ন চলতি ও এসটিডি হিসাবের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।
ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন টিমের তদন্তে তিন কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মেলে। তদন্তে উঠে আসে, ১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালের ২৯ মার্চ পর্যন্ত সময়ে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়।
এ ঘটনায় ২০০০ সালের ৬ এপ্রিল জনতা ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আবুল কাসেম মিয়া নগরের ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন।
পরে তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার শুনানিকালে মোট ১২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পাঁচ কর্মকর্তাকে আট বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



