লাখো আমানতকারীর অপেক্ষার প্রহর কি শেষ হচ্ছে? অর্থমন্ত্রীর বৈঠকে নতুন ইঙ্গিত!

প্রকাশিত: ০৪ জুলাই, ২০২৬ ২১:৩০

ক্ষোভ, হতাশা আর চরম অনিশ্চয়তা নিয়ে তারা এসেছিলেন। চোখে-মুখে ছিল লাখ লাখ গ্রাহকের সারাজীবনের সঞ্চয় হারানোর আতঙ্ক।

তবে দেশের শীর্ষ ৫টি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ভুক্তভোগী আমানতকারীদের সেই মেঘাচ্ছন্ন মুখে কিছুটা হলেও স্বস্তির আলো ফুটিয়েছেন সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ শনিবার ভুক্তভোগী আমানতকারীদের একটি প্রতিনিধি দল অর্থমন্ত্রীর চট্টগ্রামের বাসভবনে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন।

অত্যন্ত আবেগঘন এবং আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আমানতকারীরা তাদের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি, চরম অর্থনৈতিক সংকট এবং মানসিক দুর্ভোগের চিত্র অর্থমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আপনাদের এই পাঁচটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে নিরলস কাজ চলছে। খুব দ্রুতই আপনাদের বিষয়ে একটি ইতিবাচক ও ভালো সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে।”

সংকটের গভীরে সরকার: সংসদেও উঠেছিল প্রসঙ্গ

বৈঠকে আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে অর্থমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, এই সংকট নিয়ে সরকার উদাসীন নয়। তিনি বলেন, “আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, আমি ইতিপূর্বে জাতীয় সংসদেও আপনাদের এই সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করেছি।

বর্তমান পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের কিছুটা সময় দিন। অতি দ্রুতই ব্যাংকগুলোর কারিগরি ত্রুটি ও অন্যান্য জটিলতা সমাধান করে ব্যাংকিং কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে।”

অর্থমন্ত্রীর এই সরাসরি আশ্বাসে উপস্থিত গ্রাহকদের মাঝে দীর্ঘদিনের জমে থাকা উৎকণ্ঠা কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়।

আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বৈঠকে চট্টগ্রাম আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে ভুক্তভোগীদের পক্ষে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেন।

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন-আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. আবুল কালাম আজাদ, সহ-সভাপতি এম এ কাদের এবং সহ-সভাপতি শারমিন আক্তার।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন অর্থ সম্পাদক আলাউদ্দীন আজাদ, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক জাবেদ বিপ্লব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, সহ-সাধারণ সম্পাদক আলী শাহ্ মোহাম্মদ নাজমুল হাসান সজল, প্রচার সম্পাদক ইমরান হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, দপ্তর সম্পাদক জাকির হোসেন, যোগাযোগ সম্পাদক সোহেল এবং আরও অনেক ভুক্তভোগী আমানতকারী ও নেতৃবৃন্দ।

শেষ বিকেলের প্রত্যাশা

বৈঠক শেষে আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এক যৌথ প্রতিক্রিয়ায় জানান, অর্থমন্ত্রীর আন্তরিকতা এবং প্রতিশ্রুতি তাদের আশাবাদী করেছে।

এখন লাখ লাখ গ্রাহকের জমানো টাকা ফেরত পাওয়ার পথ সুগম করতে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের।

ব্যাংকিং খাত আবার তার পুরনো গৌরব ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পাক, এটাই এখন সময়ের দাবি।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি