বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ এক প্লাস্টিকের ড্রাম। গৃহস্থালির চেনা কোনো অনুষঙ্গ ভেবে যে কেউ হয়তো এড়িয়ে যাবেন।
কিন্তু সেই সাধারণ ড্রামের ভেতরেই লুকিয়ে ছিল এক লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা। যার নীল দংশনে ধ্বংস হয়ে যেতে পারত হাজারো তরুণের ভবিষ্যৎ।
তবে শেষ রক্ষা হয়নি। অভিনব এই মাদক পাচার কৌশলের পেছনের অন্ধকার জাল ভেদ করে শাকিলা শারমিন রেশমী (২২) নামের এক তরুণীকে আটক করেছে র্যাব-১৫।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে টেকনাফের হোয়াইক্যং র্যাব ক্যাম্পের সদস্যরা উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হাজিরপাড়া এলাকার একটি বসতবাড়িতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৫ কক্সবাজারের মিডিয়া কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক।
র্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে হাজিরপাড়া এলাকার ওই বাড়িটি ঘেরাও করে র্যাবের একটি চৌকস দল। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়েই ঘরের ভেতর হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।
মাদক কারবারিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে আটক করা হয় ঘরের বাসিন্দা শাকিলা শারমিন রেশমীকে। তবে র্যাবের চোখ এড়িয়ে ক্ষিপ্রতার সাথে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন রেশমীর এক সহযোগী।
পরবর্তীতে তল্লাশি চালানো হয় রেশমীর ঘরে। একপর্যায়ে ঘরের কোণে রাখা এবং ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া একটি প্লাস্টিকের ড্রাম দেখে সন্দেহ হয় আভিযানিক দলের।
ড্রামটি খুলতেই বেরিয়ে আসে বিশেষ কৌশলে স্তরে স্তরে সাজিয়ে রাখা ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবার এক বিশাল চালান।
চোরাবালিতে ২২ বছরের জীবন
মাত্র ২২ বছর বয়স। যে বয়সে রঙিন স্বপ্ন দেখার কথা, জীবন গড়ার স্বপ্নে বিভোর থাকার কথা। সেই বয়সে শাকিলা শারমিন রেশমী জড়িয়ে পড়েছেন মাদকের মতো এক মরণনেশার অন্ধকার জগতে।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রেশমী স্বীকার করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার এই চক্রের সাথে সরাসরি জড়িত।
সহজ উপায়ে বিপুল অর্থ উপার্জনের লোভ নাকি কোনো অদৃশ্য মহলের চাপ, কোন চোরাবালি এই তরুণীকে এই অন্ধকার পথে নামিয়েছে-তা নিয়ে এখন স্থানীয় এলাকায় চলছে নানা গুঞ্জন।
র্যাব-১৫ কক্সবাজারের মিডিয়া কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, “আটক নারী ও তার পলাতক সহযোগীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উদ্ধার করা ইয়াবাসহ আটক রেশমীকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”
উখিয়ার এই ঘটনাটি সমাজে এক বড় ধরনের সতর্কবার্তা দেয়। বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার আইনের চোখে বড় সাফল্য হলেও, ২২ বছরের এক তরুণীর এভাবে অপরাধের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া আমাদের সামাজিক ও মানবিক অবক্ষয়কেই নির্দেশ করে।
পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনতে এবং এই চক্রের মূল শিকড় উপড়ে ফেলতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

