টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। কোথাও হাঁটু, কোথাও আবার কোমরসমান পানি।
ঘরবাড়িতে আকস্মিক পানি ঢুকে পড়ায় বানের জলে বন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
এমন দুর্যোগপূর্ণ ও থমথমে পরিস্থিতির মাঝেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ফায়ার সার্ভিসের এক অভূতপূর্ব ও মানবিক উদ্ধার অভিযান।
গলাসমান পানি মাড়িয়ে, পাতিলের ওপর ছাতা ধরে মাত্র আট মাস বয়সী এক শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায় সেই রোমহর্ষক ও আবেগঘন দৃশ্য।
চারদিকে থইথই করছে পানি। তার মাঝেই বুক চিতিয়ে লড়ছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারীরা।
এক হাতে টানানো রশি ও অন্য হাতে একটি বড় পাতিল ধরে গলাসমান পানির তীব্র স্রোত ঠেলে এগিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের একজন অকুতোভয় সদস্য।
আর সেই পাতিলের ভেতরে পরম নিশ্চিন্তে শুয়ে আছে আট মাস বয়সী এক দুগ্ধপোষ্য শিশু।
বৃষ্টির পানি থেকে শিশুটিকে বাঁচাতে পাশে থাকা ফায়ার সার্ভিসের আরেক সদস্য পরম মমতায় পাতিলটির ওপর ছাতা ধরে হাঁটছেন।
বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে খবর আসে চেচুরিয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দী হয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের আট সদস্যের একটি চৌকস দল উদ্ধার সরঞ্জামের পাশাপাশি একটি বড় পাতিল নিয়ে রওনা হয় ঘটনাস্থলে।
বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন,“আটকে থাকার খবর পেয়ে আমাদের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রতিটি প্রাণকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া।
শিশুটিকে সুরক্ষিত রাখতে আমরা এই ব্যতিক্রমী উপায় অবলম্বন করি।”
অন্ধকার ও পানির তীব্র স্রোত উপেক্ষা করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে আটকা পড়া পাঁচ শিশু এবং আট নারীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে ফায়ার সার্ভিসের এমন মানবিক ও বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ উদ্ধার তৎপরতা সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বলছেন, এই ছবি ও ভিডিও কেবল একটি উদ্ধার অভিযানের গল্প নয়, বরং দুর্যোগের রাতে এক টুকরো আশার আলো ও মানবতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

