চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার হাজীপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে গত ১৭ দিন আগে বের হয়েছিলেন পেশায় রিকশাচালক আকবর হোসেন (৫০)। পরনে ছিল সাধারণ শার্ট ও প্যান্ট।
কিন্তু সেই যে বের হলেন, আর ঘরে ফেরেননি তিনি। শ্যামলা বর্ণের এই মানুষটির আকস্মিক নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর থেকে চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাঁর পরিবারের।
নিখোঁজ আকবর হোসেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের কঞ্জুরী গ্রামের প্রয়াত জাকের হোসেনের ছেলে।
চার সন্তানের (২ ছেলে ও ২ মেয়ে) জনক আকবরের এই অন্তর্ধানে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা।
আকবরের খোঁজ না পেয়ে গত ২ জুলাই তাঁর বড় ছেলে আসলাম হোসেন ইমন বায়েজিদ বোস্তামী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপরই অনুসন্ধানে নামে পুলিশ।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, আকবরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সর্বশেষ ফেনী এলাকায় সচল ছিল এবং এরপরই সেটি বন্ধ হয়ে যায়।
এরই মধ্যে ফেনীতে একটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পুলিশ নিখোঁজের ছেলে ইমনকে নিয়ে সেখানে ছুটে যায়। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি আকবরের ছিল না।
নিখোঁজ আকবরের শ্যালক দিদার অত্যন্ত আবেগাক্রান্ত কণ্ঠে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “অনেক দিন হয়ে গেল দুলাভাইয়ের কোনো খোঁজ নেই। আমরা সম্ভাব্য সব জায়গায় গিয়েছি, কিন্তু কোথাও তাঁর সন্ধান পাইনি।
ভাগিনা ইমনকে নিয়ে পুলিশ ফেনীতে একটা লাশ দেখতে গিয়েছিল, কিন্তু ওটা আমার দুলাভাইয়ের লাশ ছিল না। পুলিশ আমাদের জানিয়েছে, দুলাভাইয়ের মোবাইলটি ট্র্যাক করে সর্বশেষ ফেনী পর্যন্ত খোলা পাওয়া গিয়েছিল, এরপর থেকে ওটা বন্ধ।”
নিখোঁজের ১৭ দিন পার হলেও তদন্তে তেমন কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে পরিবারটি।
বাবা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটানো ছেলে আসলাম হোসেন ইমন বলেন, “আমার বাবা গত ২৭ জুন বিকেলে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। ১৭ দিন পেরিয়ে গেছে, অথচ এখনো আমরা কোনো খোঁজ পাইনি। বাবার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় আমরা পুরো পরিবার চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিনাতিপাত করছি।”
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বায়েজিদ বোস্তামী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাজেদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “নিখোঁজ আকবর হোসেনের সন্ধানে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে প্রযুক্তিগত তদন্তে বড় কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছে না।
নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর মোবাইলটি সর্বশেষ ফেনী এলাকা পর্যন্ত সচল ছিল, এরপর বন্ধ হয়ে যায়। সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো, নিখোঁজ হওয়ার আগে ওই মোবাইল থেকে সন্দেহভাজন বা বিশেষ কারও সঙ্গে তাঁর কোনো কথা বলার রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
ফলে আমাদের তদন্তে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরেও আল্লাহ ভরসা, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।”
এদিকে আকবরের অপেক্ষায় এখনো পথ চেয়ে বসে আছে তাঁর স্ত্রী ও চার সন্তান।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

