প্রলয় চৌধুরী মুক্তি : ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসন ও পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’-এর বিশেষ আলোচনা সভা।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে যেন হয়ে উঠেছিল আগামীর প্রকৃতির ছায়া এবং স্বাবলম্বী হওয়ার গভীর স্বপ্ন।
অনুষ্ঠানে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল করার তাগিদ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মো. এরশাদ উল্লাহ বলেন, “গ্রামীণ অর্থনীতির অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তবে শুধু সরকারি পরিকল্পনা কাগজে-কলমে থাকলেই চলবে না, বোয়ালখালীকে সত্যিকার অর্থে সমৃদ্ধ করতে হলে সাধারণ মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে শতভাগ আন্তরিক হতে হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা ইউসিসিএ লি: এর চেয়ারম্যান মো. নুরুন্নবী চৌধুরী।
উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা জহির উদ্দিন ভুঁইয়ার চমৎকার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের এক মিলনমেলায়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোজাফ্ফর হোসেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. ইসহাক চৌধুরী এবং সাবেক সদস্য সচিব হামিদুল হক মন্নান।
বক্তারা বলেন, গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন ছাড়া একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন অসম্ভব। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে বোয়ালখালীর মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি।
এ সময় তৃণমূলের শক্তি ও যুব সমাজের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন জেলা যুবদল নেতা মো. আজগর, ইউসিসিএ সদস্য মো. হাসান চৌধুরী ও নিয়তি দেবী।
অনুষ্ঠানে সরকারি সেবার সমন্বয় ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রুমন তালুকদার, কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহানুর ইসলাম, মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাঈম হাসান এবং পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলামসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে মানবিক ও আকর্ষণীয় অংশটি ছিল এর সমাপ্তি পর্ব। একদিকে যেমন কচি-কাঁচার দল মেতে উঠেছিল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায়, অন্যদিকে গ্রামীণ নারী ও পুরুষ উদ্যোক্তাদের চোখে ছিল নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার। এরপরই গ্রামীণ উদ্যোক্তা ও উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয় ঋণের চেক ও ফলদ-বনজ গাছের চারা।
ঋণের চেক হাতে পাওয়া এক স্থানীয় উপকারভোগী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “এই সহায়তা শুধু টাকা নয়, আমার পরিবারের ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস।”
আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এই গাছের চারা যেমন একদিন ফল ও ছায়া দেবে, ঠিক তেমনি আজকের এই ক্ষুদ্র ঋণ বোয়ালখালীর গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও মজবুত ও স্বাবলম্বী করে তুলবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

