ঘরের ঠিক সামনেই থোকা থোকা পেয়ারা পেকেছে। সেই পেয়ারার লোভ সামলাতে না পেরে চঞ্চল পায়ে গাছে উঠেছিল এক কিশোর।
কিন্তু সে জানত না, সেই গাছের ডালপালাই আড়াল করে রেখেছিল ৩৩ হাজার ভোল্টেজের এক মরণফাঁদ! এ
কটি অসতর্ক মুহূর্ত ও ওত পেতে থাকা বিদ্যুতের তার কেড়ে নিল ফুটফুটে এক মাদ্রাসাছাত্রের প্রাণ।
বলছি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মন্দাকিনী এলাকার মোহাম্মদ শাহেদের ছেলে মোহাম্মদ আলিফের কথা।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে।
স্থানীয় বাসিন্দা রহমত উল্লাহ চৌধুরী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই (বুধবার) ঘরের সামনে পেয়ারা পাড়ার জন্য গাছে ওঠে কিশোর আলিফ। কিন্তু গাছের খুব কাছ দিয়েই বয়ে গেছে ৩৩ হাজার ভোল্টেজের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন।
গাছে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই অসাবধানতাবশত ওই উচ্চ ভোল্টেজের লাইনের সংস্পর্শে আসে সে। মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুতায়িত হয়ে ঝলসে যায় তার শরীরের বেশিরভাগ অংশ।
আলিফের আর্তচিৎকারে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
চমেক হাসপাতালের বিছানায় টানা চার দিন ধরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছে আলিফ। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা আর পরিবারের চোখের জল-কোনো কিছুই ধরে রাখতে পারেনি তাকে।
অবশেষে ১৮ জুলাই, শনিবার রাত ঠিক ৯টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে আলিফ। স্তব্ধ হয়ে যায় একটি পরিবারের সব স্বপ্ন ও কোলাহল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সেলিম।
আজ রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টায় স্থানীয় মাঠে আলিফের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আলিফের এই অকাল ও নির্মম মৃত্যুতে গোটা ফরহাদাবাদ এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সহপাঠী আর প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পূর্ব মন্দাকিনীর বাতাস।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

