ইউসিবিএল থেকে ২৫ কোটি আত্মসাৎ: আদালতে একে একে ৩৫ সাক্ষীর জবানবন্দি

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬ ২০:৫৩

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে অস্তিত্বহীন ও ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচারের মামলায় বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

আলোচিত এ মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে আরও ৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমানের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই হেভিওয়েট দুর্নীতি ও অর্থ পাচার মামলায় নতুন চারজনের সাক্ষ্য নেওয়ার মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৩৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হলো। আদালত আগামী ৬ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

চলতি বছরের ১১ মার্চ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছিলেন।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির চিত্র।

অভিযোগপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদ তার নিজস্ব মালিকানাধীন ‘আরামিট গ্রুপ’-এর প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহকে মালিক দেখিয়ে দুটি অস্তিত্বহীন ও ভুয়া কাগজ সর্বস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

ইউসিবি ব্যাংকের চট্টগ্রাম পোর্ট শাখা থেকে জাল নথিপত্র তৈরি করে ২৫ কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হয়। তৎকালীন সময়ে ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ সরাসরি ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিলেও তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছিল।

২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই সাড়ে ২৫ কোটি টাকার বিপুল অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেল ঘুরিয়ে বিদেশে পাচার করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় সুনির্দিষ্ট ও শাস্তিযোগ্য অপরাধের প্রমাণ পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৯২ জনকে সাক্ষী করে ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়।

মামলার উল্লেখযোগ্য শীর্ষ আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী ও রোকসানা জামান চৌধুরী।

এ ছাড়া সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ, আফরোজা জামান, সৈয়দ কামরুজ্জামান, মো. শাহ আলম, মো. জোনাইদ শফিক, অপরূপ চৌধুরী, তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান, ইউনুছ আহমদ, হাজী আবু কালাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরীসহ মোট ৩৬ জন।

ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও অর্থ পাচারের এই গুরুত্বপূর্ণ মামলাটিতে দ্রুত সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হওয়ার দিকে নির্দেশ করছে পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া।

আগামী ৬ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি