বিজিবির বিশেষ প্রশিক্ষিত কে-৯ (K-9) ডগ ‘মেঘলা’র তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতায় ধরা পড়ল যাত্রীবাহী বাসে লুকিয়ে রাখা অবৈধ মাদকের বড় চালান।
ঘটনাটি ঘটে গত ১ আগস্ট রাত ৯ ঘটিকায়। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ দমদমিয়া চেকপোস্টে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী ‘পায়রা পরিবহন’ এর একটি যাত্রীবাহী বাস (রেজিস্ট্রেশন নম্বর-কক্সবাজার-জ-১১-০২৫২) থামান।
বাসটি থামানোর পর তল্লাশি অভিযানে নামানো হয় বিজিডি-১০৮৯ বিজিবি কে-৯ ডগ ‘মেঘলা’কে।
পুরো বাস ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ এক জায়গায় এসে থামে মেঘলা এবং স্পষ্ট সংকেত দেয় যে সেখানে মাদকের অস্তিত্ব রয়েছে।
ঠিক তখনই বাসের চালকের চোখ-মুখের অভিব্যক্তি ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হয় বিজিবি সদস্যদের।
কালবিলম্ব না করে বিজিবির চৌকস দলটি চালকের আসনসহ সম্পূর্ণ বাসটিতে নিবিড় ও সূক্ষ্ম তল্লাশি চালায়।
তল্লাশি চালাতে গিয়েই বেরিয়ে আসে চোরাকারবারীদের চতুর কৌশলের থলের বিড়াল!
চালকের আসনের একদম সামনে স্টিয়ারিংয়ের নিচে দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থানে অত্যন্ত গোপনে লুকানো অবস্থায় ২০ লিটার এবং বাসের পেছনের আসনের নিচে লুকানো আরও ২৫ লিটার, মোট ৪৫ লিটার দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়।
অবৈধ মাদক বহনের দায়ে তাৎক্ষণিকভাবে বাসের চালক ও হেলপারকে আটক করা হয় এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পায়রা পরিবহন এর বাসটি জব্দ করা হয়।
আটকরা হলেন-টেকনাফ কায়ুকখালীপাড়া মো. আফজালের ছেলে বাস চালক মো. রফিক (৩২) এবং টেকনাফ নতুন পল্লানপাড়া মো. কালু মিয়ার ছেলে বাস হেলপার মো. জুয়েল (২২)।
এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া দৃঢ় বার্তা দিয়ে বলেন, বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান, অবৈধ পণ্য পাচার এবং সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।
মাদক ও চোরাচালান দমনে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল, চেকপোস্টভিত্তিক তল্লাশি এবং বিজিবি কে-৯ ডগের সহায়তায় বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বিজিবি সূত্র জানায়, আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও জব্দকৃত বাসসহ তাদেরকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

