চট্টগ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও ত্রাস সৃষ্টি করা শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন ও তার পাঁচ সহযোগীকে অবশেষে বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আদালত তাদের দুই পৃথক মামলায় মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
রবিবার (২ আগস্ট) চট্টগ্রামের বিচারিক আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোতাসিম বিল্লাহ শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
ফটিকছড়ি থানার একটি মামলায় পাঁচ দিন এবং হাটহাজারী থানার অন্য একটি মামলায় পাঁচ দিন-সব মিলিয়ে মোট ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়।
আদালতের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আসামি ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতিটি মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছিল।
বিচারক যুক্তিতর্ক ও মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রতিটি মামলায় পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মৃত মো. মুসার ছেলে এই ডেভিড ইমন। সাধারণ এক তরুণ থেকে চাটগাঁর অপরাধ জগতের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠার পেছনের গল্পটি বেশ বিপজ্জনক।
পুলিশ সূত্র জানায়, শুরুতে তিনি কারারুদ্ধ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেনের অপরাধ চক্রে যোগ দেন। সাজ্জাদ গ্রেফতার হওয়ার পর চতুর ইমন সেই গ্রুপের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন।
পরবর্তীতে বিদেশে আত্মগোপনে থাকা আরেক প্রভাবশালী সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে ওই অপরাধ চক্রের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছে ডেভিড ইমন মানেই ছিল এক আতঙ্কের নাম।
পুলিশের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে বন্দরনগরীতে ঘটা একাধিক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মূল কারিগর ছিলেন এই ইমন।
বাকলিয়া ও চান্দগাঁও এলাকায় সংঘটিত জোড়া হত্যার (ডাবল মার্ডার) নেপথ্যে তার নাম উঠে আসে। বহুল আলোচিত যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে তিনি অন্যতম অভিযুক্ত। এছাড়া চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া এবং হত্যাপ্রচেষ্টাসহ তার বিরুদ্ধে অন্তত দেড় ডজনেরও বেশি মামলা ঝুলছে।
বেশ কিছু দিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন এই শীর্ষ সন্ত্রাসী। অবশেষে গত বুধবার যশোর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে দেশ ছাড়ার চেষ্টা চালান তিনি।
তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তিন সহযোগীসহ সীমান্তেই ধরা পড়েন এই দুর্ধর্ষ অপরাধী।
রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ডেভিড ইমনের গ্যাংয়ের অন্য সদস্যদের অবস্থান এবং তাদের ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

