পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরে আয়োজিত জশনে জুলুস ও মাহফিল শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হচ্ছে পুরো নগরী।
যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অস্ত্র বহন, প্রদর্শন ও ব্যবহারের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।
একই সঙ্গে শোভাযাত্রা ও মাহফিল উপলক্ষে একটি নির্দিষ্ট ট্রাফিক রোডম্যাপও প্রকাশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তিতে এই সব কঠোর দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
গণবিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে নগরের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির শুভ সূচনা ও সর্বসাধারণের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে চট্টগ্রাম সিএমপি অধ্যাদেশ ১৯৭৮-এর ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, র্যালি চলাকালে যেকোনো প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র বহন বা প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি কোনো ধরনের মূর্তি বা কুশপুত্তলিকা প্রদর্শনও করা যাবে না।
আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় মূল জশনে জুলুসের সময়সূচি ও নির্ধারিত রুট প্রকাশ করা হয়েছে। সকাল ৮টায় নগরের ষোলশহরের আলমগীর খানকা কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে ঐতিহাসিক এই র্যালি শুরু হবে।
বিবিরহাটে গিয়ে বামে মোড় নিয়ে র্যালিটি এগোবে মুরাদপুরের দিকে। সেখান থেকে ডানে মোড় নিয়ে ষোলশহর ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাস হয়ে পুনরায় একই পথে ফিরে আসবে।
র্যালিটি শেষ পর্যন্ত জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা সংলগ্ন জুলুস ময়দানে এসে সমবেত হবে এবং সেখানে মূল মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
জুলুস চলাকালীন নগরবাসীর যাতায়াত সুগম ও নিরাপদ রাখতে লালখান বাজার থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত ফ্লাইওভার পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিএমপি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, র্যালির সূচনা থেকে মাহফিল শেষ হওয়া পর্যন্ত সিএমপির জারি করা এই আদেশ কার্যকর থাকবে।
নিয়ম অমান্য করে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

