রংপুরের চার খুন মামলার আলামত ফরেনসিকে গেল ১২ দিন পর

আসামিদের ডিএনএ নমুনা ঝুলছে অনিশ্চয়তায়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০৮

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত পাঠানো হয়েছে ফরেনসিক ল্যাবে।

তবে হত্যাকাণ্ডের পর ১২ দিন পার হয়ে গেলেও ল্যাবে আলামত পাঠানোয় বিলম্ব এবং গ্রেপ্তার আসামিদের ডিএনএ নমুনা এখনো সংগ্রহ না করা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরপরাধ কারো সাজা এড়াতে দ্রুত বৈজ্ঞানিক আলামত ও আসামিদের ডিএনএ সংগ্রহ জরুরি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার তালাবদ্ধ এক বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনার পরপরই প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলা দায়েরের পর তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।

বর্তমানে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ মামলাটি তদন্ত করছে।

ঘটনাস্থল থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ৩৫টিরও বেশি আলামত উদ্ধার করে। যার মধ্যে ছিল ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের ফয়েল, সিগারেটের অবশিষ্টাংশ, নান রুটি, শসা, খেজুর, বেসিনের দাগ এবং নিহত শিশু প্রিয়মের খাতায় পাওয়া হাতে লেখা একটি চিরকুট।

সিআইডির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী জানান, পরিদর্শক মিল্লাতের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ দল আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছিল।

তবে এসব আলামত সংগ্রহ ও হস্তান্তরের পর তা ফরেনসিক ল্যাবে পাঠাতে ১২ দিন সময় লেগে যায়। গত ৩ সেপ্টেম্বর তিনটি ধাপে এসব আলামত ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়।

একই সঙ্গে, নিহত গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হলেও কারাগারে থাকা মূল দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের নমুনা এখনো নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে আরপিএমপির উপকমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) সনাতন চক্রবর্তী জানান, আদালতের নির্দেশ মেনে সিআইডি থেকে পাওয়া সব আলামত ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

ফরেনসিক পরীক্ষার প্রাথমিক ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই কারাগারে থাকা আসামিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন কেবল জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে কোনো গুরুতর হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করা ঝুঁকিপূর্ণ। আলামত পাঠাতে বিলম্ব হলে কিছু সংবেদনশীল আলামতের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তাই ডিএনএ পরীক্ষাসহ সার্বিক আলামতের বৈজ্ঞানিক মেলবন্ধন যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করাই আইন ও বিচারের স্বার্থে সমীচীন।

নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তীর দায়ের করা এই হত্যা মামলায় এখন সব নজর ফরেনসিক প্রতিবেদনের দিকে।

ল্যাবের ফলাফল ও আসামিদের ডিএনএ প্রোফাইলিং মিলে গেলেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি