আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। আগামী ১২ অক্টোবর ঘর আলো করে আসার কথা ছিল নতুন অতিথির। ২৪ সেপ্টেম্বর ছিল নিজের ২৬তম জন্মদিন। কিন্তু সুখের এই আয়োজন মুহূর্তেই ঢেকে গেল ঘন কালো বিষাদের ছায়ায়।
চট্টগ্রামের ডেঙ্গু পরিস্থিতির এক নির্মম বাস্তবতার শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন ৩৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণী অর্পিতা দাশ। মায়ের বিদায়ের সাথে সাথেই চিরদিনের জন্য চোখ বুজল তাঁর গর্ভের সন্তানটিও।
গত শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অর্পিতা। মায়ের প্রয়াণের পরপরই তাঁর গর্ভস্থ মৃত পুত্রসন্তান প্রসব হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অর্পিতা দাশ চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মী মিঠুন চৌধুরীর স্ত্রী। গত বছরের ১৬ অক্টোবর নতুন জীবনের সূচনা করেছিলেন এই দম্পতি। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতেই অর্পিতার শরীরে জ্বর দেখা দেয়। রক্ত পরীক্ষার পর ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।
পরদিন, ৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে নগরের মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু দিন দিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে দ্রুত চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
চমেক হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, তিনি ‘ডেঙ্গু এক্সপ্যান্ডেড সিন্ড্রোম’-এ আক্রান্ত ছিলেন, যা ডেঙ্গুর অত্যন্ত জটিল ও বিপজ্জনক রূপ। সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে অবশেষে জীবনের আলো নিভে যায় তাঁর।
মাত্র কয়েক দিন আগেই, গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে সন্তান জন্মদানের এক মাস পর ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছিলেন রাশেদা বেগম রিমা নামে অপর এক নারী।
সেই শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই অর্পিতা ও তাঁর অনাগত সন্তানের এই করুণ বিদায় নগরবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
যে বয়সে একটি পরিবারে নতুন প্রাণের আগমন ঘিরে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস থাকার কথা ছিল, সেখানে আজ শুধুই হাহাকার।
ভালোবাসার জন্মমাসের দরজায় দাঁড়িয়ে অর্পিতার এই চলে যাওয়া আর কখনোই ফিরে না আসা এক নিঃশব্দ হাহাকারে রূপ নিয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


